ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

মুকিতের পক্ষে এবার জামায়াত নেতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২২ ২২:২০:০২ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২২ ১৭:১০:০১
মুকিতের পক্ষে এবার জামায়াত নেতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

গাইবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেওয়া পলাশবাড়ী উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিবুল হাসান মুকিতের পরিবারের সঙ্গে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার একাধিক প্রমাণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। কিন্তু একটি বলয়ে এখনও মুকিত রয়ে গেছেন আওয়ামী লীগে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি মুকিতের পক্ষে স্থানীয় জামায়াত নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধারা।

মুকিতকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ বলে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম মিলন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস এম পাইলট হাইস্কুলে মুকিতের ক্লাসে সহপাঠী ছিলেন তৎকালীন শিবিরের সক্রিয় এই নেতা মিলন। এর পাশাপাশি মুকিতের বাসায় থাকা শিবিরের মেসেও থেকেছেন মিলনসহ শিবিরের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান মিলন নিজেই।

এদিকে গাইবান্ধা জেলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, ওর (মুকিতের) পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিলো কিনা তা জানতে চাই না। সে তো ছাত্রলীগ করা ছেলে। তার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের বিরুদ্ধে এবার তদন্ত হবে।

শিবিরের সর্বোচ্চ অবস্থান রোকন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম মিলন। মুকিতের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে ছাত্রলীগ করতো সে।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আগে মুকিতের রাজনৈতিক অবস্থান কী ছিলো সেটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। উল্টো মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে যারা তদন্ত কমিটির কাছে প্রমাণসহ বক্তব্য প্রদান করেছেন তাদের প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে তাদের পরিবারের জামায়াত ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেন মিলন। 

তার বক্তব্য অনুসারে মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বক্তব্য দেয়া সকলের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট! জামায়াত ইসলামের তৈরি করা কলেজে কিভাবে মুকিতের বাবা প্রতিষ্ঠাকালীন প্রিন্সিপাল হয়েছেন সে বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেননি মিলন। বরং মুকিতের বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, তার বাবা জামায়াত করলে কী আর প্রিন্সিপালের দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হতো?

এদিকে মুকিতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। এ বিষয়ে ফোনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কনক বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেও লজ্জা লাগছে। জামায়াত শিবিরের পরিবারের সন্তানকে আশ্রয় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ- এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমরা পলাশবাড়ীর মুক্তিযোদ্ধারা খুব শিগগিরই বসছি আবার বিষয়টি নিয়ে। আগেই বলেছিলাম, ব্যবস্থা না নিলে কঠোর অবস্থানে যাবো আমরা।

পলাশবাড়ীর অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পলাশবাড়ীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। কেন এখনও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না মুকিতের বিরুদ্ধে, আমরা সামনে কী করবো- এ বিষয়ে আলোচনার পর জানাতে পারব। তবে আমরা এখনও আমাদের আগের দাবিটিই জানাচ্ছি। আর তা হলো, আওয়ামী লীগের যে কোনো কার্যক্রম থেকে মুকিতের অপসারণ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মুকিত ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক সাংবাদিকদের বলেন, যে কোন সময় বিষয়টি আলোচনায় আসবে। এ বিষয়ে কাদের ভাইকে জিজ্ঞাসা করেন। আপাও জানেন।

উল্লেখ্য মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আমিনুল ইসলাম নামে গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর এক অভিযোগপত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে সেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে প্রেরণ করেছেন।

জানা যায়, কেন্দ্রের কাছে প্রেরিত প্রতিবেদনে ২৮ জন সাক্ষীর কেউই 'মুকিতের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট নয়' বলে মন্তব্য করেনি। বরং অধিকাংশ সাক্ষী মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেছেন। এমনকি মুকিতের বাড়িতে থাকা শিবিরের লজ বা মেস থেকে ২০১৩ সালে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলা চালানোর অভিযোগও পাওয়া যায় সাক্ষীদের কাছ থেকে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে