ঢাকা ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

ঝড় তোলা ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানের রচয়িতা যিনি

আফফান মিতুল
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২১ ১৮:৩০:২০
ঝড় তোলা ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানের রচয়িতা যিনি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানটি। হঠাৎ কোথা থেকে এলো এই গান? গানটি কতো দিন আগের? কে এই গানের রচয়িতা? এমন নানা প্রশ্নে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের বিয়ের লোক গান ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানটি এক তরুণি তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে নেচে-গেয়ে ইউটিউবে দেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। একই সময়ে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে চিকিৎসকদের মনোবল চাঙ্গা করতে একটি হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক গানটির সঙ্গে নেচে আরও একবার ভাইরাল করেন। বসে থাকেননি সিনে তারকারাও। সোশ্যালে যে যার মতো করে পরিবেশন করেছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, গানটির রচয়িতা লোককবি দিব্যময়ী দাস। তিনি একুশের পদকপ্রাপ্ত দুই লোকসঙ্গীত শিল্পী রাম কানাই দাশ ও সুষমা দাশের মা। দিব্যময়ীর স্বামীও ছিলেন লোককবি। তার নাম রসিকলাল দাশ। 


বিয়ের গান লিখতেন দিব্যময়ী দাশ। ‘আইলো রে নয়া দামান’ গানটি তারই লেখা দাবি করে দিব্যময়ীর নাতনি কাবেরী দাশ নিউ ইয়র্ক থেকে এক ভিডিও বার্তায় জানান, গানটি আমার ঠাকুরমা’র লেখা ও সুর করা। ১৯৬৫ সালের দিকে তিনি গানটি রচনা করেন। পরে তিনি বিভিন্ন গ্রামের আসরে পরিবেশন করে সঙ্গী ও শ্রোতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

মূল গানের দুই একটি শব্দও বদলে ফেলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে কাবেরী দাশ বলেন, মূল গানটি হলো, ‘আইলো রে নয়া জামাই আসমানেরই তারা।’ এখানে ‘তেরা’ বলে কোনো শব্দ নেই। ‘তেরা’ মানে হলো বাঁকা। 

কাবেরী আরও দাবি করেন, শিল্পী ইয়ারুন্নেসা খানম ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে গানটি দিব্যময়ীর পুত্রবধূর কাছ থেকে নিয়ে প্রথমবারের মতো সিলেট বেতারে পরিবেশন করেছিলেন। দিব্যময়ী দাশ বেতারের এনলিস্টেড গীতিকার ছিলেন না বলে তার নামটি ‘অজ্ঞাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এদিকে ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, জীবদ্দশায় বিবিস, ভয়েস অব আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাম কানাই দাশ এ গানের গীতিকার ও সুরকার হিসেবে মা দিব্যময়ীর নাম উল্লেখ করে গেছেন।

দিব্যময়ীর লেখা এই গানটিই ২০০৫ সালের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত লোকগানের একক অ্যালবাম ‘অসময়ে ধরলাম পাড়ি’তে রেকর্ড করেন তার ছেলে রাম কানাই দাশ। তবে বিভিন্ন সাক্ষাতকারে তিনি গানের গীতিকার হিসেবে মায়ের নাম বলে এলেও অ্যালবামে তা উল্লেখ করেননি।


অবশেষে সিলেটের মেয়ে তসিবা গানটিতে নতুন করে কণ্ঠ দিয়ে নিজের বলে দাবি করেন। এরপরেই চলছে কপিরাইট বিতর্ক।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন