ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

কোরবানিতে দেশে চাহিদার চেয়ে ২৩ লাখ পশু বেশি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২ ১০:৫০:২৯ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২২ ১১:১৪:০০
কোরবানিতে দেশে চাহিদার চেয়ে ২৩ লাখ পশু বেশি

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা ছোট-বড় খামারীদের উৎপাদিত গবাদি পশুর সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি। আসন্ন ঈদুল-আজহায় দেশে ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। ফলে কোরবানির জন্য চাহিদার চেয়ে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ পশু বেশি আছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সম্প্রতি জানিয়েছেন- অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রির ক্ষেত্রে হাসিল আদায় করা যাবে না। এমনকি বাজারের বাইরে বাড়িতে বা রাস্তায় কেউ পশু বিক্রি করলে তাদের কাছ থেকেও হাসিল বা চাঁদা আদায় করা যাবে না। খবর বাসসের।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট-বড় খামারীদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদদতারা জানান- মেহেরপুরে কোরবানির চাহিদা চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৯৮ হাজার পশু।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান জানান, কোরবানির জন্য এবার জেলার ৪০০টি বাণিজ্যিকসহ পারিবারিকভাবে ২৮ হাজার খামারে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৮৬টি পশু কোরবানিযোগ্য হয়েছে।

গরু ৫৮ হাজার ৩৬৩টি, মহিষ ৫৮২টি, ছাগল ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯টি, ভেড়া ২ হাজার ৭৭২টি। জেলায় পালিত কোরবানির পশু জেলার চাহিদা মিটিয়েও দেশের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলায় কোরবানির চাহিদা ৮৯ হাজার ৮২০টি। উদ্বৃত্ত পালন হয়েছে ৯৭ হাজার ৯৬৬টি। জেলায় ৪০০টি বাণিজ্যিকসহ ২৮ হাজার পারিবারিক খামার মালিক রয়েছে।

পারিবারিক ও বাণিজ্যিক খামারে প্রায় ১ লাখ প্রায় ৮৮ হাজার পশু পালিত হয়েছে কোরবানির জন্য। জেলার বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে দেখা গেছে, নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, হরিয়ানাসহ নানা জাতের গরু মোটা-তাজা করা হয়েছে।

বগুড়ায় কোরবানির ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে চোরাপথে পশু না আসায় দেশে গো-খামারীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৫টি।

এবার প্রায় ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এবার জেলায় কোরবানির পশুর কোন সংকট হবে না। বগুড়ায় কৃষকের ঘরে ও গো খামারের কোরবানি যোগ্য গবাদি পশুর প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৯৫টি। মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তাই তারা ছোট ও মাঝারি গরু লালন পালন করেছেন বেশি।

জয়পুরহাটে কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ছোট-বড় মিলে জেলায় ১২ হাজার ৬৮৪টি পশুর খামার রয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার ২৫০টি পশু কোরবানি হবে এমন টার্গেট নির্ধারণ করা হলেও খামারে বর্তমানে পশু মজুদ রয়েছে- ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০টি। এরমধ্যে রয়েছে ষাঁড় রয়েছে ৩০ হাজার ৪৭৫টি, বলদ রয়েছে ১৫ হাজার ১৪টি, গাভী রয়েছে ২৫ হাজার ৬৬৩টি, মহিষ ২০৪টি, ছাগল ৮২ হাজার ৩৪টি ও ভেড়া রয়েছে ২৫ হাজার ২৭০টি। যা দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৫০ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কুমিল্লা জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়- জেলায় চাহিদার চেয়ে ১০ হাজারের অধিক বেশি পশু মজুদ রয়েছে। ঈদে জেলার পশুর চাহিদা ২ লাখ ৪৮ হাজারের মধ্যে বর্তমানে জেলায় পশুর মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩২টি।

এদিকে জেলায় কোরবানির হাটবাজারে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে গৃহপালিত গয়াল। বিলুপ্তপ্রায় বন-গরু প্রজাতির এ পশুটি কুমিল্লায় বাইসন নামেও পরিচিত। আদর্শ সদর উপজেলার মাঝিগাছা এলাকার ফাতেমা এগ্রোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গয়াল পালন করা হচ্ছে। একেকটি গয়ালের ওজন প্রায় ১১ মণ। হাটে নেয়ার পর দাম তোলা হবে ৫ লাখ করে।

কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে গয়াল পালন করছেন খামারীরা। মূলত মাংসের জন্যই গয়াল পালন করা হয়। গহীন বনের ছোট ছোট ঝোপে এরা দলবেঁধে থাকে। তবে এটি এখন গৃহপালিত পশু হিসেবে স্বীকৃত। গয়ালের মাংসে কোলেস্টেরল কম হওয়ায় মানবদেহের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

নোয়াখালীতে কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, জেলায় সাড়ে ৬ হাজার খামারী রয়েছে। এতে কোরবানির ঈদের জন্য ৯৯ হাজার গরু-মহিষ ও ছাগল রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ১০ হাজার বেশি।

ফেনীতে কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় ৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে লালন-পালন করা পশু দিয়ে জেলায় কোরবানির শতভাগ চাহিদা মেটানো যাবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিসুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৭৫ হাজার। আর এজন্য লালন-পালন করা হচ্ছে ৮১ হাজার ৯৮০টি পশু। চাহিদার চেয়ে প্রায় ৬ হাজার ৯৩৮টি পশু অতিরিক্ত রয়েছে।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বলেন, অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এক বা একাধিক পশু লালন-পালন করছেন।

রাঙ্গামাটিতে কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরুণ কুমার দত্ত বলেন, জেলা সদরসহ ১০ উপজেলায় এবার ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য গবাদিপশুর চাহিদা ৩৪ হাজার ২২৮টি। জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও আরো প্রায় ৫ হাজারের মতো উদ্বৃত্ত থাকে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

টুঙ্গিপাড়ায় চাহিদার উদ্বৃত্ত কোরবানির পশু উৎপাদিত হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ বিশ্বাস জানান, ঈদের চাহিদার তুলনায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এবার উদ্বৃত্ত পশু উৎপাদিত হয়েছে।

কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর প্রাপ্যতা ও চাহিদার বিবরণ থেকে জানা গেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৫০০ ছোট বড় খামারে ২ হাজার ৬৯০টি ষাঁড়, ১০টি বলদ, ৫টি মহিষ, ৭০৩টি ছাগল, ৮৬টি বন্ধা গাভী ও ১৮টি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সে হিসেবে টুঙ্গিপাড়ায় মোট ৩ হাজার ৫১২টি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। উপজেলায় মোট কোরবানির পশুর চাহিদা ২ হাজার ৭৭৫টি। এখানে উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৭৩৭টি।

আরও পড়ুন: কোরবানির হাটেও পদ্মা সেতুর সুফল

বরিশালে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও খামারী অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু করেছেন। একই সাথে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়াও পেয়েছেন বলে জানান- খামারী ও প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান বা খামারীরা অ্যাপস, ফেসবুক ও বিভিন্ন ওয়েব সাইডের মাধ্যমে পশুর নির্ধারিত মূল্য, ছবি, ওজন (সম্ভব্য মাংস) ও নিজ মোবাইল নম্বর দিয়ে দিচ্ছে। ক্রেতারা তা দেখার পর যোগাযোগ করে পশু ক্রয় করছেন। 

অনলাইনে পশুর সর্বাধিক তথ্য রয়েছে। আছে পশুর জাত, বয়স ও ওজন সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য, পাশাপাশি থাকছে খাদ্য তালিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংবলিত বিস্তারিত তথ্য।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে