ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

বিদ্যুতে বিঘ্ন: ‘এই পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবে না’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২ ১১:২৫:৫৪
বিদ্যুতে বিঘ্ন: ‘এই পরিস্থিতি বেশি দিন থাকবে না’

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারের জ্বালানির অস্থিরতার ঢেউ বাংলাদেশে আসায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সেই ধাক্কা দ্রুতই সামলে ওঠা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। 

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুদিন পর লোড শেডিংয়ের দেখা পেয়েছে মানুষ, যা অর্ধদশকের মধ্যে বিরল ঘটনা। 

প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করা ও মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি খুব বেশি দিন থাকবেনা আশা করি। এবছরের মধ্যেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট আমদানি করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

নসরুল হামিদ বলেন, আপনাদের সবার নিশ্চয়ই মনে আছে ২০০৮ সালের আগে সারাদেশে দিনে ১৬-১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। সেই কঠিন সময়ে আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই সংকটকালীন সময়েও আপনাদের শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলবো। 

এই সংকট আমরা সবাই মিলেই পার করবো- এমন আশা প্রকাশ করে তিনি এই পরিস্থিতিতে সবার প্রতি গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। 

নসরুল হামিদ বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য পণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরকেও বিপদে ফেলে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির অনন্য মাইল ফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আমাদের শিল্পায়ন অতীতের সকল সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। 

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে জাপান, আষ্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোও ভুক্তভোগী হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমরা এলএনজি পাচ্ছি। এর পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করতাম। কোভিড-১৯ এর আগে আমরা এক ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ৪১ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। 

এত উচ্চমূল্যে আমদানি করলে আমাদের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছিল; সেটা এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০ থেকে ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। আর সেখানে বর্তমানে সরবরাহ দেয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছিনা কারণ আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদের অনেক পরিমাণ গ্যাস দিতে হচ্ছে।

তিনি জানান, আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

সেখান থেকে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে আমাদের খনিগুলোর রির্জাভ কমে যাওয়ার কারণে।

আরও পড়ুন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইকের রেজিস্ট্রেশন নয়

নসরুল হামিদ বলেন, সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে আরো গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী তিন বছরের একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে করে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে