ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

চুরির স্মার্ট ফোন বগুড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে উদ্ধার!

একাত্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শকসহ ৭ জনকে ঢাকায় ক্লোজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২ ১৯:৫২:২০
একাত্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শকসহ ৭ জনকে ঢাকায় ক্লোজ

চুরি হওয়া শতাধিক স্মার্ট ফোন উদ্ধারের পর তা পুলিশের কাছে জমা না দিয়ে নিজের জিম্মায় রাখায় সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শকসহ ৭ জনকে ঢাকা কার্যালয়ে ক্লোজ করা হয়েছে।  

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা) কাজী আবেদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। 

২ জুলাই একাত্তর অনলাইনে 'চুরির শতাধিক মোবাইল ফোন মাদন নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে!' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরই তাদের ঢাকায় ক্লোজ করার এই আদেশ দেয়া হয়েছে।

ক্লোজকৃতরা হলেন, বগুড়ার (খ সার্কেল) সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সার্কেল লুৎফর রহমানের পরিদর্শক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, উপ-পরিদর্শক শামীমা আক্তার, সহকারি উপ-পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিপাহী মো. জুলফিকার রহমান, মো. সালাহ উদ্দিন, মো. জামিল আক্তার ও মো. শুভ হোসাইন।   

অফিস আদেশে আরো বলা হয়েছে - জনস্বার্থে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে তাদের ঢাকায় সংযুক্ত করা হলো। আদেশে কর্মকর্তাদের জরুরী ভাবে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে সান্তাহার কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। 

বগুড়ার আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় সান্তাহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি কোন তথ্যও জানানো হয়নি অধিদপ্তর থেকে। 

জানা গেছে, নওগাঁ পুরাতন বাস স্টান্ড এলাকায় স্যামসাং ও ভিবো মোবাইল ফোনের শোরুম থেকে গত ২৫ জুন (শনিবার) বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১৪০টি স্মার্ট মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। ঘটনায় পরদিন নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে তদন্তে মাঠে নামে নওগাঁ জেলা পুলিশ। 

পরদিন ২৬ জুন (রবিবার) দুপূরে সান্তাহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের একটি দল সান্তাহারের পোওতা রেলগেট এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের জন্যে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করে সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের নিয়ে যায়। এরপর ৫ দিনেও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উদ্ধারকৃত মোবাইল আত্মসাতের জন্য মাদকদ্রব্য অফিসে রেখে দেয়া হয়। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা পুলিশের সদর সার্কেল ও সদর থানা ওসি নেতৃত্বে ১ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যে রাতে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক লুৎফর রহমানের অফিস থেকে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১০৭টি স্মার্ট ফেন উদ্ধার করে নওগাঁ জেলা পুলিশ। তবে বাকিগুলো এখানো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

এদিকে অভিযোগ উঠেছিলো- সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে ফোনগুলো উদ্ধারের পর ঘটনারপর এই ঘটনাটি ধামাপাচা দেয়ার জোর প্রচেষ্টা চালানো হয় বিভিন্ন মহল থেকে। তবে ২ জুলাই একাত্তর অনলাইনে 'চুরির শতাধিক মোবাইল ফোন মাদন নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে!' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।  

বগুড়া মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাজিউর রহমানের সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শকসহ ৭ জনকে ঢাকা কার্যালয়ে ক্লোজ করার বিষয়টি তার জানা নেই বলে সেল ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। 

নওগাঁ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, ঘটনাটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে ১ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যে রাতে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে ১০৭টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৩টি ফোনগুলো উদ্ধারে কাজ চলার পাশাপাশি অধিদপ্তরের কর্তা-কর্মচারিরা থানায় জমা না কি উদ্দ্যেশে রেখে দিয়েছিলেন সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর তদন্ত করে সঠিক কারণ উৎঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে