ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে বরিস জনসন

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২ ২০:৫৯:৩৫ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২২ ২১:০৬:৪৯
রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে বরিস জনসন

নিজের মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই মন্ত্রী তার নেতৃত্বকে আক্রমণ ও পদত্যাগ করার পর রীতিমতো রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। 

এছাড়াও বুধবার (৬ জুলাই) পার্লামেন্টে নিয়মিত অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া নিয়েও চাপে আছেন তিনি। খবর বিবিসির। 

এর আগে কনিষ্ঠ কয়েক মন্ত্রীর পদত্যাগ করেন এবং সহকর্মীদের আক্রমণের লখ্যবস্তু হন বরিস। এসবের মধ্যেই বরিসের ঘনিষ্ঠজন ও আস্থাভাজন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে পদত্যাগ করেন। 

এতে সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজেছে বরিস জনসনের। আর লেবার পার্টি বলছে, বরিস যে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা দুর্নীতিগ্রস্ত।  

এদিকে, ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র বলছে, জনসন তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এবং জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।  

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের পর ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় রদবদলও করেছেন বরিস জনসন। নাদিম জাহাবীকে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ স্টিভ বার্কলেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেছেন। 

যদিও ধরে নেয়া হচ্ছে বুধবার হাউজ অব কমন্সের ‘প্রাইম মিনিস্টার কোয়েশন্স’ সেশনে এমপিদেরও তোপের মুখে পড়বেন তিনি। দেশটির সাংবিধানিক রীতিতে প্রতি বুধবার বিকেলে একটি অধিবেশন বসে যেখানে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। 

এছাড়াও এদিন তার কয়েকজন এমপির সমন্বয়ে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটিকে প্রমাণ দেবার কথা। এই কমিটি সরকারের নীতি এবং সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাই করে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরিস জনসনের দল থেকে পদত্যাগ করা ভাইস চেয়ারম্যান বিম আফোলামি একটি টেলিভিশনের লাইভে বলেছিলেন, পার্টিগেট কেলেঙ্কারির পর পুনরায় আস্থা অর্জনের খাতিরে সাম্প্রতিক আস্থা ভোটে তিনি জনসনকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বিবিসি রেডিও ফোরের বুধবারের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, করোনার বিধি লঙ্ঘন করে পার্টি আয়োজন করে সমালোচিত হয়েছিলেন বরিস জনসন। সেটি পার্টিগেট কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিতি পায়। এজন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তবে তা নিয়ে পদত্যাগের চাপে ছিলেন তিনি। এরপর পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবেও উতরে গিয়েছিলেন। 

আরও পড়ুন: ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংকটে জনসন

সম্প্রতি নতুন করে কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। রক্ষণশীল দলের এমপি ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন তিনি। এরপরও তাকে সরকারের ডেপুটি চিফ হুইপ করেন। 

এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে আবারও ক্ষমা চান বরিস। তবে নিজ দল থেকেই এবার তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এছাড়া সরকার পরিচালনায় বরিস জনসনের সক্ষমতা নিয়ে নিজ দল ও দলের বাইরেও ব্যাপক সমালোচনাতো রয়েছেই।


একাত্তর/জো 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে