ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

অভিমানে, অসুস্থতায় 'সাদা কালা' গানের হাশিম মাহমুদের দিনকাল

কামরুন নাহার রাখি, একাত্তর
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২২ ১৯:১৪:১০ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২২ ১৯:১৬:৪০
অভিমানে, অসুস্থতায় 'সাদা কালা' গানের হাশিম মাহমুদের দিনকাল

'সাদা সাদা কালা কালা' গানটি ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনায় আসেন এই গালের মূল শিল্পী হাশিম মাহমুদ। একেবারে নিভৃতচারী এই শিল্পী কেমন আছেন, কিভাবে কাটছে তার দিন, সেই খবর নিতেই একাত্তর পৌঁছে যায় তার নিজ বাড়ি নারায়নগঞ্জে। 

'তুমি বন্ধু কালা পাখি' সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এই গানটি যিনি নিজে লিখে নিজেই সুর করেছেন তিনি নায়ায়নগঞ্জের শিল্পী গিতিকার হাশিম মাহমুদ। হাওয়া সিনেমায় ব্যবহার হওয়ার পর গানটি ভাইরাল হলে পরে তিনি সবার নজরে আসলেও শাহবাগ পাড়ায় তিনি পরিচিত মানুষ। 

সবার মুখে মুখে প্রচলিত এই গানটি শাহবাগের আড্ডায় ২০১০ সালে প্রথম গেয়েছিলেন হাশিম মাহমুদ। 

এমন আরও অনেক গান নিজে লিখে নিজেই সুর করেছেন এই গুণী শিল্পী। 

হাশিম মাহমুদ একাধারে একজন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, ছড়াকার ও আবৃত্তিকার। 

তবে মানসিকভাবে আর আগের অবস্থায় হাশিম মাহমুদ। কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলেন। নিজের লেখা গানের কথা-সুরও ভুলে যান গাইতে গিয়ে । হারিয়ে ফেলেন তালও। কখনও রবীন্দ্রনাথ , কখনো নজরুল , কিংবা লালন শাই দাবি করেন নিজেকে। অসংখ্য কাল্পনিক চরিত্রে নিজেকে সাজিয়ে রচনা করেন গান। এখন আর বলতে পারেন না নিজের নামটুকুও। 

পঞ্চাশোর্ধ এ শিল্পী এখন অনেকটা নিভৃতে বাস করেন নারায়ণগঞ্জে।

ভাইবোনের মধ্যে হাশিম মাহমুদ পঞ্চম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটেই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবন-যৌবন। চারুকলায় তিনি হাশিম ভাই নামেই ব্যাপক পরিচিত। তবে কোন এক চাপা অভিমানে এতোটা সময় কাটানো সেই চারুকলার নাম শুনতে পারেন না এখন। 

আরও পড়ুন: প্রাণনাশের হুমকি পেলো ভিকি-ক্যাটরিনা দম্পতি

শাপলা নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। যাতায়াত ছিলো স্থানীয় সংগীত বিদ্যালয়ে। ঢাকার চারুকলা, মোল্লার দোকান, ছবির হাট, পাবলিক লাইব্রেরি ও শাহবাগ হয়ে ওঠে তার বিচরণকেন্দ্র। 

নব্বুইয়ের দশকে বৈরাগী নামের একটি গানের দলও করেছিলেন তিনি। 

ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে করেননি । বৃদ্ধ মা এবং ছোট ভাইয়ের সেবায় এখনও টিকে আছেন এই গুণী শিল্পী। 

হাশিম মাহমুদের অনেক গান বিনা অনুমতিতে অনেকে ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে তাকে এমনকি দেয়া হয়না নূন্যতম সম্মানিও। হাশিম মাহমুদের পরিবারের দাবী এই মুহুর্তে হাশিমের দরকার উপযুক্ত সহায়তা। তার গানগুলোর রয়্যালটি নিশ্চিত করা গেলে তার ভালো চিকিৎসা করা সম্ভব বলে মনে করেন হাশিম মাহমুদের পরিবার।

একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে