ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল ভূমি জরিপ শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ০৩ আগষ্ট ২০২২ ২১:০৬:৪৭ আপডেট: ০৪ আগষ্ট ২০২২ ০৮:২৮:২৬
ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল ভূমি জরিপ শুরু

ভোগান্তি কমাতে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ডিজিটাল ভূমি জরিপ। ভূমি মন্ত্রণালয় এক হাজার ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সার্ভের উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার (৩ আগস্ট) দুপুরে পটুয়াখালী ডিসি স্কোয়ারে বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে -বিডিএস) পাইলটিংয়ের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

এসময় তিনি বলেন প্রচলিত ভূমি জরিপে যেখানে ২০-২৫ বছর লাগে, সেখানে খুব অল্প সময়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ করা সম্ভব হবে। খসড়া ম্যাপ তৈরি করে ওয়েবসাইটে দেয়া হবে, যাতে জমির মালিক যে কোন স্থান থেকে তার জমির বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। ম্যাপ দেখে প্রয়োজনে আপত্তিও দাখিল করা যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল জরিপে যাবতীয় তথ্য ডিজিটাল ও নির্ভুল হওয়ায় ভূমি জরিপে স্বচ্ছতা আসবে, মামলা-মোকদ্দমা কমে আসবে, ভোগান্তিও কমবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে জরিপকাজে দীর্ঘসূত্রিতা ও জনগণের হয়রানি কমানোর জন্য ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ দেয়ায় এই উদ্যোগ।

মন্ত্রী আরো বলেন, অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইমেজ কিনে সেটা মৌজা ম্যাপের সাথে সমন্বয় করে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, এর ফলে কৃষিজমি, জলাভূমি, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষাসহ জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করাও সম্ভব হবে।

তিনি মনে করেন, জরিপে এনআইডি ইন্টিগ্রেশন থাকায় এখানে জমির মালিকানা, শ্রেণি ও ধরন ইত্যাদি বিষয়ে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে। যা দিয়ে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ভিত্তিক ও জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে। ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিডিএস একবার ঠিকভাবে করা সম্ভব হলে পুনরায় মাঠ জরিপ করার প্রয়োজন হবে না। কারণ জমি হস্তান্তর হলে এসিল্যান্ড প্রয়োজনীয় ডাটা ইনপুট দিয়ে নিজেই ম্যাপ পার্টিশন করে নিতে পারবেন। ম্যাপে সুনির্দিষ্ট দাগে ক্লিক করে ঐ দাগের জমির মালিকানা, জমির পরিমাণ, চৌহদ্দি ও শ্রেণিসহ অন্যান্য তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক ফোর্থ জেনারেশন সার্ভে ড্রোনের মাধ্যমে ডিজিটাল জরিপের পাইলটিং পটুয়াখালী থেকে শুরু হলো। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় এসএ জরিপের পর আরএস জরিপ সম্পন্ন না হওয়ায় এই দু’টি জেলার ১৪টি উপজেলা বিডিএসসের জন্য বাছাই করা হয়েছে। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে শুরু হবে এই জরিপ।

বিডিএস পাইলটিংয়ের ম্যাপ তৈরির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এবার প্রথমবারের মত ডিজিটাল ভূমি জরিপ কাজে সক্ষম বেসরকারি প্রতিষ্ঠাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, জরিপের খতিয়ান প্রস্তুত এবং মালিকানা নির্ণয়ের পর্যায়ের কাজ সরকারিভাবেই করা হবে। এই পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তীতে দেশের বাকি জেলায় একযোগে জরিপ শুরুর পরিকল্পনা করা এবং বিডিএসসের শুভ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ জানান, বিডিএস ম্যাপে জমির পরিমাণ, জমির আইলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, আকার ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যাবে। এই জরিপে তৈরি ম্যাপটিতে সেন্টিমিটার পর্যায় পর্যন্ত  ভূমি পরিমাপের নির্ভুলতা থাকবে। ডিজিটাল জরিপ বিষয়ে ১৯৫৫ সনের প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ৩০ বিধিতে আপত্তি ও ৩১ বিধিতে অনলাইনে আপীল আবেদন ও শুনানি নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচিব আরো জানান, জরিপ শেষ হলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জমি, খাস জমি, রাস্তাঘাট, জলাধার, নদী খাল ইত্যাদি চিহ্নিত করা হবে, ফলে জমি দলিল ও নামজারি করার সময় জালিয়াতি করে সরকারি জমি আত্মসাৎ বন্ধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে দাগ ভিত্তিক প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ জেনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রদান ও জালিয়াতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

তিনি জানান, সারাদেশে ডিজিটাল জরিপের সক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় এক হাজার ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প’ নামে ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের মাধ্যমে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ে, নির্ভুলভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য বাংলাদেশ ভূমি জরিপ তথা বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভেতে স্যাটেলাইট, ড্রোন তথা ইউএভি এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের সমন্বয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারাদেশের ৪৭০টি উপজেলার মৌজা পর্যায়ে জিওডেটিক সার্ভের মাধ্যমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১০টি জিও-রেফারেন্সিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে এবং ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৮৮টি মৌজা ম্যাপের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হবে।

ভূমিতে পূর্বে জরিপ করা থাকলে উক্ত জরিপের ডিজিটাইজ ম্যাপের সাথে নতুন প্রস্তুত ম্যাপের সুপার ইম্পোজের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হবে নতুন জিও রেফারেন্স মৌজা ম্যাপ।

আরও পড়ুন: শিশুর মতো দেখতে অথচ স্নাতক শিক্ষার্থী তিনি!

এছাড়া পরবর্তীতে ‘মৌজা ও প্লট ভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প’ -থেকে সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট ইমেজের সাথেও সমন্বয় করা হবে এই মৌজা ম্যাপ।

বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভের মূল উদ্দেশ্য অল্প সময়ে সমগ্র বাংলাদেশে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে তথা ভূ-সম্পদ জরিপ শেষ করা।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে