ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার নারীর জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৪ আগষ্ট ২০২২ ২১:৩৮:৩৬ আপডেট: ০৪ আগষ্ট ২০২২ ২২:২৬:৩৮
চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার নারীর জবানবন্দি

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ওই নারী জানিয়েছেন, ছয়জন ডাকাত তাকে ধর্ষণ করেন ও গলা টিপে ধরে মারধর করেন। তিনি ছাড়া আরও এক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী  বলেন, রাত সাড়ে ১১টায় তাদের বাস সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে পৌঁছায়। খাওয়া শেষ করে রওনা হওয়ার পাঁচ মিনিট পরই রাস্তা থেকে ২০–২২ বছর বয়সের তিনজন বাসে ওঠেন। তারা জানান, সামনে তাঁদের আরও লোক আছেন। কিছু দূর যাওয়ার পর আরও চারজন ওঠেন। তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, ‘আমার লোক আছে আরও।’ 

কিছুদূর যাওয়ার পর আরও ছয়জন বাসে ওঠেন। এভাবে মোট ১৩ জন বাসে ওঠেন। তারা বাসের পেছনে বসেন। একজন তাঁর (ভুক্তভোগী নারী) পাশে বসতে চান। কিন্তু সুপারভাইজার তাঁকে উঠিয়ে দেন। পরে কাছের একটি সিটে বসে সিগারেট খেয়ে ধোঁয়া ছাড়েন। নিষেধ করলে তাঁরা তাঁকে গালাগাল করেন। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে তিনজন চালকের পাশে বনেটে গিয়ে বসেন। তাঁরা সামনে নামার কথা বলেন। 

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে চালককে উঠিয়ে তাদের মধ্য থেকে একজন গাড়ি চালানো শুরু করেন। তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে পেছনে নিয়ে আসেন। এরপর প্রথমে পুরুষ যাত্রীদের হাত, মুখ, চোখ বাঁধেন। পরে মেয়েদের বেঁধে ফেলেন। মুঠোফোন, গয়না, টাকা—সব লুট করে নেন। এ সময় অনেককে মারধর করেন। 

এক পর্যায়ে ডাকাত দলের ছয়জন তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণকালে তার হাত ও চোখের বাধন খুলে যায়। একপর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির গতি কমে এবং ডাকাতরা নামতে থাকেন। একসময় হঠাৎ ডাকাত দলের চালক গাড়ির জানালা দিয়ে নেমে যান। এ সময় গাড়ি খাদে পড়ে যায়। 

প্রথমে স্থানীয় লোকজন যাত্রীদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসেন উদ্ধার করতে। যাত্রীরা জানালা দিয়ে বের হয়ে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের কাছে তারা ডাকাতির ঘটনা বলেন।

ভুক্তভোগী নারীকে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার রাতে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদল কুমার চন্দের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের স্বীকারোক্তি মূলহোতার

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন জানিয়েছেন, বাসটিতে ২৪-২৫ জন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে ছয়-সাত জন নারী ছিলেন। বাসের সবাইকে জিম্মি করে সবকিছু লুট করেছে ডাকাতরা। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এক যাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


একাত্তর/এসজে


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে