ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ০৬ আগষ্ট ২০২২ ১৯:০৭:৩৩
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে হত্যাচেষ্টা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত ২০ ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ওই ভুক্তভোগী কুমিল্লা সদর উপজেলার শুভপুর এলাকায় নিজ পরিবারের সাথে থাকেন। 

গত ২২ জুলাই বিকেলে তিনি কুমিল্লা থেকে স্বামীর বাড়ি নোয়াপাড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। 

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় তিনি উপকূল বাস থেকে নাথেরপেটুয়া সিএনজি স্ট্যান্ডে নামেন। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে রাত আটটার দিকে নোয়াপাড়া রাস্তার মাথায় নামেন। এরপর পায়ে হেঁটে রওনা দেন স্বামীর বাড়ির দিকে। 

পথে তাকে একা দেখতে পেয়ে ছোট তুগুরিয়া গ্রামের আলমের ছেলে কবির, কলিম উল্যাহর ছেলে বাহার ও আব্দুল মতিনের ছেলে শেখ ফরিদসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন যুবক তার পিছু নেয়। তারা তার স্বামীর পরিচিত দাবি করে তাকে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তাদের সাথে স্বামীর বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। 

পথিমধ্যে তারা তাকে স্বামীর বাড়িতে না নিয়ে তুগুরিয়া মজুমদার বাড়ি সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের দেয়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় তারা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং বিভিন্ন ভাবে শারিরীক নির্যাতন চালায়। 

এক পর্যায়ে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তারা এনায়েত মেম্বারের বেড়িবাঁধে নিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। 

এসময় সে চিৎকার শুরু করলে তার পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কার খুলে তারা তাকে হাত-পা বেঁধে মুমূর্ষ অবস্থায় রেখে এসে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

শারিরীক অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩১ জুলাই ওই ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ছোট তুগুরিয়া গ্রামের আলমের ছেলে কবির, কলিম উল্যাহর ছেলে বাহার ও আব্দুল মতিনের ছেলে শেখ ফরিদসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত পিবিআই’কে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ‘প্রথমে আমি নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের পর নাঙ্গলকোট থানার এসআই সাধন চন্দ্র নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযুক্তরা আমাদেরকে মামলা না করতে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। পরে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। আমার স্ত্রী বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এ বিষয়ে পিবিআই কুমিল্লার এসআই মোবারক হোসেন খান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশক্রমে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে