ঢাকা ২০ আগষ্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

জ্বালানির দাম বাড়ানোকে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ বললো বিএনপি

শফিক আহমেদ, একাত্তর
প্রকাশ: ০৬ আগষ্ট ২০২২ ১৯:৪৪:০৬ আপডেট: ০৬ আগষ্ট ২০২২ ২২:১৭:৪৫
জ্বালানির দাম বাড়ানোকে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ বললো বিএনপি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ উল্লেখ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। 

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে ছাত্রদলের সমাবেশে তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের দাবিগুলো যে মিথ্যা তা এখন প্রমাণিত হয়েছে। 

সরকারকে হুশিয়ার করে বিএনপি নেতারা বলেন, এখন থেকে আর প্রতিবাদ নয়। বরং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়বে বিএনপি। গড়ে তোলা হবে গণআন্দোলন। 

প্রায় চার বছর পর নয়াপল্টনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশে যোগ দেন বিএনপি মহাসচিবসহ সাবেক ছাত্র নেতারা। 

বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যস্থাপনার প্রতিবাদে ভোলায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশের বিস্তৃতি ছিল একদিকে স্কাউট ভবন, অন্যদিকে রাজারবাগ পুলিশের লাইন। সমাবেশে বিএনপি নেতারা সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন. এখন থেকে আর প্রতিবাদ নয় প্রতিরোধ। 

সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে। আমার শেষ কথা, হঠাও হাসিনা, বাঁচাও দেশ। জনগণের বাংলাদেশ। ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।  

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে মরার উপর খাড়ার ঘা বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার আজ দানবে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বার বার জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মানুষের প্রতি অত্যাচার শুরু করেছে। 

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একের পর এক মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণ আজ দিশাহারা। আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো আজ সবার জন্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার টিকে আছে ভয়ভীতি, হত্যা ও দমন-পীড়ন করে। রহিম ও আলমের আত্মত্যাগ চলমান সংগ্রাম ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গণআন্দোলন বেগবান করবে।

ফখরুল বলেন, এই সরকার আমাদের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নিত্যপণ্যসহ সবক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। মাঝখানে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।


বিএনপি মহাসচিব দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আর সময় নেই। আসুন একসাথে রাজপথে নামি। জনগণ আজ জেগে উঠেছে। 

সরকারকে হটাতে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলে যে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতারা করছেন, তা অস্বীকার করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, চক্রান্ত তো করেন আপনারা। আমরা চক্রান্ত করি না। আমরা প্রকাশ্যে ঘোষণা নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য জনগণের কাছে যাচ্ছি এবং তাদেরকে নিয়ে আমরা রাজপথে ফয়সালা করব।

ছাত্রদলের এই সমাবেশে সংগঠনের ঢাকা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। ভোলায় নিহত নূরে আলম ও আব্দুর রহীমের স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করা এই নেতা-কর্মীদের মুখে স্লোগান ছিল- ‘নুরে আলমের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমার ভাই মরলো কেনো শেখ হাসিনা জবাব চাই’। কেউ কেউ গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়েও আসেন।

আরও পড়ুন: তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্দয়: জি এম কাদের

ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ছাত্রদলের সমাবেশ উপলক্ষে ব্যাপক পুলিশ ও সাদা পোশাকের সদস্যদের মোতায়েন দেখা গেছে নয়াপল্টন ও আশপাশে এলাকায়। 



একাত্তর এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৮ দিন আগে