ঢাকা ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

লকডাউনে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছে ৭৬ শতাংশ শ্রমিক

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২১ ১৭:৫১:৫৭
লকডাউনে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছে ৭৬ শতাংশ শ্রমিক

মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ সামাল দিতে শুরু হওয়া লকডাউনের মতো পরিস্থিতিতে মাত্র ৪ শতাংশ শ্রমিক তাদের কারখানা থেকে বিকল্প পরিবহন সেবা পেয়েছেন বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

রোববার (৬ জুন) গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানা গেছে।

করোনা সংকট চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে তা বুঝতে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) যৌথভাবে ধারাবাহিক জরিপ পরিচালনা করছে।

সানেম জানায়, গত ২৩ এপ্রিল এক হাজার ২৮৫ জন পোশাক শ্রমিকের একটি নির্বাচিত পুল থেকে ফোনে পরিচালিত জরিপের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি উত্তরদাতা নারী শ্রমিক।রোববার এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে সানেম।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই বলেছেন তারা আগের মতই পায়ে হেঁটে কারখানায় যাতায়াত করেছেন।

৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, এই সময়ে তাদের নিজেদের উদ্যোগে বিকল্প ব্যবস্থায় কারখানায় যাতায়াত করতে হয়েছে।

মাত্র ৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা কারখানার পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করেছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ শ্রমিক পায়ে হেঁটে, ১০ শতাংশ রিকশায়, ৬ শতাংশ অটো-রিকশায় ২ শতাংশ বাসে এবং ২ শতাংশ সিএনজিতে করে কর্মস্থলে যান বলে জানিয়েছেন।

এতে দেখা গেছে, ৯২% উত্তরদাতা জানিয়েছেন- তাদের যাতায়াতের মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সানেম বলেছে, এ থেকে বোঝা যায় অধিকাংশ শ্রমিক আগের মত হেঁটে কারখানায় গেছেন। বেশিরভাগ শ্রমিক সাধারণত হেঁটেই কর্মস্থলে যান।

চলতি বছর মার্চের পর থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে প্রথমে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ দিয়ে লকডাউন আরোপ করে।

এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশজুড়ে মানুষের চলাচল সীমিত করে।

তবে লকডাউনের পুরোটা সময় রপ্তানিমুখী শিল্প চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। শর্ত হিসেবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কারখানা মালিকদের শ্রমিক ও কর্মীদের আনা নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলেছিল।

রোববার রাতে সানেমের এই জরিপের ফলাফল সম্পর্কে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “সব কারখানা গণপরিবহনের ব্যবস্থা করেনি। আবার সব শ্রমিকের গণপরিবহনের প্রয়োজনও পড়েনি।

“দ্বিতীয় দফায় লকডাউন চলার সময় কোনো কারখানা গণপরিবহন সুবিধা বাধ দিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই; এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি।“

এতে আরও বলা হয়, আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, শ্রমিকদেরকে বেতনের সঙ্গে পরিবহন ভাতাও দেওয়া হয়। সেকারণে গণপরিবহনের ব্যবস্থা করাটা কোনো আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না। তারপরও অনেক কারখানা শ্রমিকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে থাকে।

সব সময় এই শিল্পের সমালোচনা না করে, শিল্প মালিকদের অব্যাহত প্রচেষ্টাকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখা উচিত উল্লেখ করে বিজিএমই আরও জানায়, “নারী শ্রমিকদের জন্য বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করতে ইতোমধ্যে আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছি।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন