ঢাকা ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

‘লেবাসের ইসলাম নয়, আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাস করি’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২১ ১২:৫৬:১৬ আপডেট: ১৩ জুন ২০২১ ০৯:৫৯:৫১
‘লেবাসের ইসলাম নয়, আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাস করি’

'আমরা লেবাসের ইসলাম নয়, বিশ্বাস করি ইনসাফের ইসলামে', আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সারা দেশে নির্মাণাধীন ৫৬০ মডেল মসজিদের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হওয়া ৫০টির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি আরও বলেন, মুষ্টিমেয় লোক সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড করে ইসলামকে দোষারোপ করে। কিন্তু মুষ্টিমেয় লোকের কর্মকাণ্ডে ধর্মকে দোষারোপ করা যায় না। আমি বিশ্বের যেখানেই গেছি, এ বিষয়ে কথা উঠলে আমি সব ফোরামে বলেছি, মুষ্টিমেয় লোকের কর্মকাণ্ডে ধর্মকে দোষারোপ করা যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছি। এর মধ্যে ৫০টি আজ উদ্বোধন করছি। এই মসজিদ থেকে মানুষ যেন ইসলামের মূল কথাটা শিখতে পারে, জানতে পারে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতাসহ সব কিছুতে মুসলমানরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। তারা পথপ্রদর্শক ছিলেন। আজকে কেন মুসলিমরা পিছিয়ে থাকবে?'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি ও মানুষ হত্যা আমাদের ধর্মের ইমেজ নষ্ট করছে। ওলামা একরামদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই পথ সর্বনাশা পথ। এই পথ থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করে কেউ বেহেশতে যাবে না। এটা ভুল কথা। মানুষকে এটা বোঝাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক কমিটি করে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার করে তুলতে হবে। মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমি সত্যি খুব আনন্দিত। মডেল মসজিদগুলো থেকে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে, ইসলামের সঠিক প্রচার হবে। ইসলামের সঠিক জ্ঞান চর্চা হবে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানরা আবারও এগিয়ে যাবে। ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন সচেতন হয় আমরা তা চাই।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা চাই, যেন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সবাই সচেতন হয়। ইসলাম ধর্ম নারীদের অধিকার দিয়েছে। পিতার ও স্বামীর সম্পদে নারীর অধিকার দিয়েছে। এই মসজিদেও নারী-পুরুষের নামাজসহ পৃথক ধর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা আছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় দৃষ্টিতে বাল্যবিয়ে, নারী-শিশুদের নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। এগুলো রোধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে হজ যাত্রীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যবস্থা নিয়েছি। যখনই আমি হজে যাই আমাদের হজযাত্রীদের খোঁজখবর নিই। সৌদি আরবের সরকারের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো সমাধানও করি। এখন আর হজযাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় না। ঢাকা বিমানবন্দরের আশকোনা হজ ক্যাম্পেই ইমিগ্রেশনসহ নানা কার্যক্রম শেষ করার সুযোগ রেখেছি। জেদ্দায় নেমে যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেখানেও হজ্জ অফিস করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, ধর্মসচিব মো. নূরুল ইসলাম ও তিন স্পট থেকে কয়েকজন মুসল্লি প্রমুখ।



একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন