ঢাকা ১৫ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে চীন: অ্যামনেস্টি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২১ ২১:০২:১৪ আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ২১:০৪:১০
শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে চীন: অ্যামনেস্টি

চীনে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মানবতার বিরোধী অপরাধ চলছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য মুসলিমদের গণহারে আটক করা হচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে এবং নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ১৬০ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে শিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে একসময় ছিলেন এমন ৫৫ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে। সেই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, চীন জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর অঞ্চলে স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। উইঘুর, কাজাখ এবং অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ চলছে এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে তাদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকির মুখে পড়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সেখানে যা চলছে তা মানবতার বিবেককে নাড়িয়ে দেবে। সেখানকার মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে, তাদের ব্রেনওয়াশের পাশাপাশি অস্থায়ী শিবিরগুলোতে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। লাখ লাখ মানুষের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। 

অ্যামনেস্টি বলছে, বন্দিশিবির, সেখানকার নিপীড়ন-নির্যাতন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকেও মানুষকে বঞ্চিত করে রাখার মতো ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মৌলিক আইনের লঙ্ঘন। 

এদিকে গত ৮ জুন জার্মান গবেষক অ্যাডরিন জেনজ এক নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখান, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য চীনের সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে তাতে জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের জনসংখ্যা আগামী ২০বছরে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

অ্যাডরিন জেনজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং-এ বসবাসরত সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা আগামী ২০ বছরে ২৬ লাখ থেকে ৪৫ লাখ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: দরিদ্র দেশের জন্য ১০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেবে জি-৭

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের উপর চাপ তৈরির পদক্ষেপ নেয় জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল জানান, চীনের উচিত উইঘুর অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী দলকে ঢুকতে দেওয়া। সেখানে কী চলছে, তা ওই দল খতিয়ে দেখতে চায়। 

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় স্ত্রীর খুশির জন্য নামাজে নিয়ে ছেলেকে খুন করলো বাবা

সম্প্রতি উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতেও একটি পিটিশন জমা পড়েছিল। কিন্তু বিচারপতিরা সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। তারা জানিয়েছিলেন, চীন যেহেতু আদালতে আসবে না, ফলে বিষয়টির বিচার করা সম্ভব নয়। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপের সামনে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।


একাত্তর/আরবিএস

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন