ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

দৌলতদিয়া ঘাটে ভাঙ্গন: আতঙ্কে শতশত পরিবার, হুমকিতে স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২১ ২০:৩৩:৩৫ আপডেট: ১৪ জুন ২০২১ ২১:৫৪:৩২
দৌলতদিয়া ঘাটে ভাঙ্গন:  আতঙ্কে শতশত পরিবার, হুমকিতে স্থাপনা

পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে দেশের গুরুত্বপুর্ন নৌরুট দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরি ঘাটে। ভাঙ্গনরোধে বালুর বস্তা ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারপরও ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। দৌলতদিয়া পাটুরিয়ার নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাটের নবনির্মিত ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে ৭ নম্বরঘাট এলাকার শত শত পরিবার। হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। 

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালে পদ্মার ভাঙ্গনের ভয়ঙ্কর রুপ দেখেছে দৌলতদিয়ার মানুষ। যার রেশ কাটেনি এখনও। তখন থেকেই পুরোপুরি বন্ধ আছে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট। বাকি তিন, চার, পাচ ও নম্বর ঘাট দিয়ে চলে আসছিলো পারাপার। তারপরও আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাইপাস সড়কসহ ৭ নম্বর ঘাট নির্মান করে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। যা চালু হয়েছে গত মাসের ১৮ তারিখে। চালুর দিন থেকেই ছিলো ঘাট এলাকায় ভাঙ্গন। এরপর ফেরি ঘাটের ভেরার সাথে সাথে পানির ধাক্কায় ভাঙ্গন বাড়লে সেকানে জিও ব্যাগ ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় প্রবল ¯স্রোতের কারনে ঘাটটিতে কোন ফেরি ভীরছে না। ভাঙ্গনের কারনে পানি উন্নয়নবোর্ড জিও ব্যাগ ফেললেও তার ফাকে ফাকে আবারও ফাটল ধরেছে। কোন কোন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। 

এ সময় সোহরাব মেম্বার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ হারেজ আলী মোল্লা একাত্তরকে বলেন, এত সামান্য পরিমানে বস্তা ফেলায় চিন্তার মধ্যে আছেন তারা। যতসামান্য জিও ব্যাগ ফেলে চলছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এখন ভাঙ্গন নিয়ে চিন্তায় পরেছেন ৭ নম্বর ঘাট সংলগ্ন সোহরাব মেম্বার পাড়া এলাকার কয়েক শত পরিবার।

অপর বাসিন্দা লালন শেখ বলেন, কোন প্রকার ত্রান সহায়তা নয় শুধু নদী শাসন চাণ তারা। এখনই জোরালো পদক্ষেপ গ্রহন না করলে দুই এক সপ্তাহের মধ্যেই নেমে আসতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। এছাড়াও এখনই ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এই ভাঙ্গন আঘাত হানতে পারে পুরো ঘাটে।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম টেলিফোনে একাত্তরকে বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে একটি বাইপাস সড়কসহ ঘাটটি নির্মান করা হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরের আগেই ঘাটটি চালু করার কথা ছিলো। কিন্তু ঈদের চারদিন পর ১৮ মে ঘাটটি চালু করা হয়। আর ভাঙ্গন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এ ব্যাপারে কারো কোন হাত নেই। ভাঙ্গনরোধে বিআইডব্লিটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যাবস্থা গ্রহন করবে। 

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোঃ ফিরোজ শেখ বলেন, ৭ নম্বর ঘাট চালুর দিন থেকেই ভাঙ্গন ছিলো। বার বার বলার পরও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। ঘাট কোনমতে চালু থাকলেও ঝুকি এড়াতে ওই ঘাটে ভেরানো হচ্ছে না কোন ফেরি। 

এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজিজুল হক খান বলেন, এই নৌরুট দিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ পাড় হয়। সেদিক বিবেচনা করে ঘাট সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে বার বার সভা করা হয়েছে। দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ঘাটের আধুনিকায়নে সাড়ে ৭ শত কোটি টাকার একটি বিল পাশ হয়েছে জাতীয় একনেকে। ভাঙ্গনরোধে প্রস্তুত আছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেখানেই ভাঙ্গন দেখা যাচ্ছে সেখানেই জিও ব্যাগ ফেলছেন তারা।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন