ঢাকা ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

শাল্লায় হামলা: প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বারের জামিন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২১ ১৬:৫২:৫৭ আপডেট: ২২ জুন ২০২১ ১০:৩৩:২৫
শাল্লায় হামলা: প্রধান আসামি স্বাধীন মেম্বারের জামিন

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাও গ্রামে হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সমর্থকদের সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রধান আসামি ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে জামিন দিয়েছে আদালত। সোমবার (২১ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার তাকে জামিন দেন। আলোচিত এই সাম্প্রদায়িক হামলার প্রধান আসামির জামিনের বিষয়টি একাত্তরকে নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শামসুন নাহার বেগম শাহানা।


অ্যাডভোকেট শামসুন নাহার বেগম শাহানা বলেন, গত ১৬ মার্চ নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক যুবক হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্টেটাস দেন। এর জের ধরে তার সমর্থকরা ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ওই গ্রামে হামলা ওলুটপাট চালায়। আলোচিত এই হামলার প্রধান আসামি ছিলেন শহিদুল ইসলাম স্বাধীন। আজ তার আইনজীবীরা আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। 

তবে এখনো ঝুমন দাস আপনের জামিন হয়নি বলে জানান তিনি। ঝুমন দাস আপনের আইনজীবী এডভোকেট দেবাংশু শেখর দাস বলেন, গত ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে হেফাজতে ইসলামের ব্যাজ মাথায় পড়ে মামুনুল হকের সমর্থকরা নোয়াগাও গ্রামে বর্বরোচিত হামলা করে। তারা ৮৫টি বাড়িঘর ভাংচুর, ৭টি মন্দির ভাংচুরসহ লুটপাট করে। এই হামলার আগে দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল, সন্তোষপুর, ধনপুর, নাচনি ও শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মসজিদগুলোতে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে মাইকিং করে হামলায় কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়।

হামলার সময় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাইভ দিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এই লাইভ ভিডিও সংগ্রহ করেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই জামিনে বেরিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, বর্বরোচিত এই হামলায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সরকারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো গ্রামে এসে হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহমর্মিতা জানিয়ে সহায়তা করেন। এ ঘটনায় গত ১৮ মার্চ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রামবাসীর পক্ষে ইউপি রচয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ৫০ জনের নামোল্লেখসহ ১ হাজার ৫ শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। একই দিন শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে প্রধান আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। তাছাড়া ঝুমন দাস আপনের মা ৭০ জনের নামোল্লেখ করে আদালতে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য আলোচিত এই হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হককে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত এবং দিরাই থানার ওসিকে একই অভিযোগে বদলি করা হয়। এছাড়া পুলিশের সদর দফতরের তদন্ত কমিটি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আরো ১১ জনের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দিয়ে বদলির সুপারিশ করেছিল। গত ২৬ এপ্রিল এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছিল পুলিশের সদর দফতর।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন