ঢাকা ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

কদমতলীতে ট্রিপল মার্ডার

ক্ষোভের বশে মা-বাবা ও বোনকে খুন করে মেহজাবীন মুন

সোহাগ আহমেদ, যাত্রাবাড়ী
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২১ ১৭:১৪:১৮ আপডেট: ২৫ জুন ২০২১ ০৭:৩৭:০৮
ক্ষোভের বশে মা-বাবা ও বোনকে খুন করে মেহজাবীন মুন

ক্ষোভের আগুন নাকি চিতার আগুনের থেকেও ভয়াবহ। ঢাকার কদমতলী থানাধীন মুরাদপুরের এক বাড়িতে যেনো একথার সত্যতা মিললো আরও একবার। ক্ষোভের বশীভূত হয়ে মা-বাবা আর ছোট বোনকে খুন করছে মেহজাবীন মুন। এ খুনের ঘটনায় রোববার (২০ জুন) মেহজাবিনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ জুন) মেহজাবিনের স্বামী মামলার অপর আসামী শফিকুলকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

কদতমলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর একাত্তরকে বলেন, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গত শনিবার ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এই হত্যার মুল আসামী মেহজাবীন মুনকে, যা গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। রিমান্ডে মেহজাবীন মুন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ক্ষোভের কারণে তিনি তার মা, বাবা ও ছোট বোনকে হত্যা করেন।

তবে এই মামলার অপর আসামী মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম এই হত্যার সাথে জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছে মুন।

ওসি জানান, মুন ২০১৬ সালে আরও একটি হত্যা মামলার আসামি ছিল। তবে ওই ঘটনায় মেহজাবিন মুনকে আসামি করা হলেও পরে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। যে কারণে ঐ মামলার অপর আসামী শফিকুল, মৌসুমী এবং শিউলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সে মামলায় তারা তিনজন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

মেহজাবিনের কেন এত ক্ষোভ?

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহত মাসুদ রানা ও নিহত মৌসুমীর বড় মেয়ে মেহজাবিন মুনের বিয়ের আগে আমিনুল ইসলাম নামের এক প্রাইভেট শিক্ষক তাকে পড়াতেন। ওই সময় মুনের মায়ের সহযোগিতায় তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে তা শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। কিন্তু আমিনুল ছিল চরিত্রহীন। সে সুযোগ পেয়ে ছাত্রী মুনের মা মৌসুমীর সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং দিন দিন মা ও মেয়ের সাথে আমিনুল শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও সংগ্রহ করতে থাকেন। পরে আমিনুল এসব ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মা ও মেয়েকে জিম্মি করে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এমনকি তিনি মুনের ছোট বোন জান্নাতুল ইসলাম মোহিনী ও তার এক আত্মীয়ের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

পরিবারে গৃহশিক্ষক আমিনুলের সঙ্গে মা ও দুই মেয়ের বহুমুখী জটিলতাপূর্ণ সম্পর্কের এক পর্যায়ে মেহজাবিন মুনকে শফিকুল নামের এক জনের সঙ্গে বিয়ে দেন মা মৌসুমী। এতে ক্ষিপ্ত হন গৃহশিক্ষক আমিনুল। তিনি ছাত্রী মেহজাবিনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তার স্বামীকে দেখান। এতে মুনের সংসারে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।

এমন পরিস্থিতিতে মা মৌসুমী আমিনুলের ওপর বিরক্ত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে মুনের খালা শিউলী আক্তার পরিকল্পনা করে গৃহশিক্ষক আমিনুলকে বাসায় ডেকে নিয়ে গত ৫ বছর আগে হত্যা করেন। আমিনুলের খুনের ঘটনায় আসামী হিসাবে মেহজাবীন মুনও জেল খাটে।

আরও পড়ুন: চার দিনের রিমান্ডে মেহজাবিন

মায়ের জন্য তার জীবন নরক মনে করেছিল মুন। বাবা সব কিছু জানার পরেও কোন পদক্ষেপ নেননি। আর ছোট বোন নিজের স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করায় নিজ সংসারে অশান্তি। পারিবারিক এসব বিষয়ে তার ভিতর ক্ষোভের বশীভূত হয়ে মা বাবা ও বোনকে হত্যা করেছিল মেহজাবীন মুন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর রজ্জব আলী সরদার রোডের পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম মোহিনীর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অচেতন অবস্থায় মেহজামিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে তৃপ্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মেহজাবিন ও তার স্বামী শফিকুলের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় একটি মামলা হয়।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন