ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

কাপ্তাই হ্রদ শুকিয়ে ৬ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২১ ১৩:২২:৩০ আপডেট: ২৭ জুন ২০২১ ১০:৩০:৩২
কাপ্তাই হ্রদ শুকিয়ে ৬ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত

গেলো শুষ্ক মৌসুমে তীব্র তাপ-দাহে অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। হ্রদের বুক চিড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এতে নৌ-চলাচলের পথ শুকিয়ে জেলার ছয় উপজেলায় লঞ্চে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দাবি উঠেছে হ্রদ খননের।

১৯৬০ সালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়ায় সৃষ্টি হয় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের দীর্ঘতম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। শুষ্ক মৌসুমে এবারো অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে এ হ্রদের পানি। হ্রদের জেগেছে অসংখ্য ডুবোচর ও টিলা।

পানি শুকিয়ে উপজেলা সদরের জেটিঘাট দূরে সরে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ চলাচল। বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়াচর, বিলাইছড়ির হাজারো মানুষকে ইঞ্জিন চালিত বোটে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট বেট বা স্পীড বোটে যাত্রীরা চলাচল করলেও সেটি এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমানে ৬ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রী এবং মালামাল ছোট ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তারপরও শুভলং -এর পরে গিয়ে বোটগুলো আটকে যায়। ২-৩ ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। দুর্ভোগের সাথে সাথে বেড়েছে পরিবহন খরচ।

ফলে ঐসবস্থানে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই যেসব পয়েন্ট ড্রেজিং করা প্রয়োজন সেখানে ড্রেজিং করার দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে পঞ্চম দিনের লকডাউন

রাঙামাটি নদী রক্ষা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, হ্রদ সৃষ্টির ৬১ বছর পার হতে চললেও হ্রদের ড্রেজিং না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের সাথে জড়িত সকল মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। দীর্ঘদিন যাবত ড্রেজিং না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে প্রতিনিয়ত বর্জ্য পড়ে আর বর্ষায় পলি জমে তলদেশ ভরাট হওয়ায় হ্রদ নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে ড্রেজিং -এর বিষয়ে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।


হ্রদে পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলে রাঙামাটির ৬ উপজেলার সরাসরি নৌ-যোগাযোগ বন্ধের পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন