ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

পেটে অসহ্য ব্যাথা? এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে, ভয় নয় সতর্কতা জরুরি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২১ ১৭:৫৯:৫৮ আপডেট: ২৮ জুন ২০২১ ১৩:৪৩:২৯
পেটে অসহ্য ব্যাথা? এন্ডোমেট্রিওসিস হতে পারে, ভয় নয় সতর্কতা জরুরি

পৃথিবীর ১৭ কোটি ৬০ লক্ষ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের ভয়ানক ব্যাথায় ভুগছেন। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এন্ডোমেট্রিওসিস কি? এবং এটি কি বেড়েই চলবে?

এন্ডোমেট্রিওসিস কী?

নারীদের জরায়ুতে যে এন্ড্রোমেট্রিয়াল লাইন থাকে, তার কোষ জরায়ুর বাইরে ফেলোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় বা পাউচ অব ডগলাসে লেপ্টে বসে থাকলে তাকে এন্ডোমেট্রিওসিস বলা হয়ে থাকে। ঋতুস্রাবের সময় থেকেই শুরু হতে পারে এন্ডোমেট্রিওসিস এবং এটি পৌছতে পারে মেনোপোজ পর্যন্ত।  ঋতুস্রাবের আগে হরমোনের প্রভাবে এই সব অস্বাভাবিক এন্ডোমেট্রিয়াম টিসুগুলো ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে এবং প্রচুর রক্তপাত হয়,আর এই কারণেই পেটে ভয়ানক ব্যাথা হয়। কখনও কখনও রেক্টাম বা মলাশয়েও এটি হতে পারে ।

কী উপসর্গে সতর্ক হতে হবে ?

এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলেও অনেক সময় এর কোন উপসর্গই থাকে না। শুধুমাত্র বন্ধ্যাত্ব বা অন্য কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে এটি ধরা পড়ে। স্টেজ-১ বা স্টেজ-২ অসুখে বেশিরভাগ সময়ে খুবিএকটা সমস্যা হয় না। তবে, স্টেজ তিন বা স্টেজ চারে পৌঁছলে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাত হয়। কিছুটা রক্ত পেটের মধ্যে থেকে যায়। আর সমস্যা হয় এর থেকেই। জমা রক্ত চকোলেট সিস্ট হয়ে পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যাথা সৃষ্টি করে। পিরিয়ডের কিছুদিন আগে শুরু হয় তল পেটে ব্যাথা। শুরুতে ব্যাথা থাকলেও পরে শেষেরদিকে এর ব্যাথা তীব্র হয়। এসময় হেভি মেন্সট্রুয়াল ব্লিডিংও হতে পারে। 

• প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময়ও ব্যাথায় হতে পারে। 

• যৌন সম্পর্কের সময় মারাত্মক ব্যাথা ও যন্ত্রণা হয়।

• তলপেট ছাড়াও কোমরে ব্যাথা হয়। 

এছাড়াও, এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও রয়েছে।

এই রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিগুলো কী?

আল্ট্রাসোনোগ্রাফির সাহায্যে ডিম্বাশয়ে সিস্ট দেখতে পাওয়া যায়, সন্দেহ হলে ল্যাপারোস্কোপির সাহায্যে খুঁটিয়ে দেখা দরকার। এন্ডোমেট্রিওসি রোগীর সঙ্গে কথা বলে সম্ভব হলে একই সিটিং-এ ল্যাপারোস্কোপির সাহায্যে এগুলো নির্মূল করে ফেলতে হবে। নইলে একদিকে কষ্ট বাড়বে, অন্যদিকে ওভারি, ইউটেরাস, ফ্যালোপিয়ান টিউব ইত্যাদি জড়িয়ে গিয়ে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা :

এন্ডোমেট্রিওসিস ধরা পড়লে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমত, নন স্টেরয়েড অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ দিতে হয়, ব্যথা উপশমের জন্য। অনেক সময় পিলের সাহায্যে অসুখ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মনে রাখতে হবে, এটা নেহাতই একটি ওষুধ। 

দ্বিতীয়ত, মাসে ২১টি ওরাল কনট্রাসেপ্টিভ পিল দেওয়া হয় রোগীকে। তৃতীয়ত, ‘ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইসেস’ এটি একটি ছোট্ট যন্ত্র, যা জরায়ুতে ঢোকালে তা ধীরে ধীরে প্রোজেস্টেরনের নিঃসরণে সাহায্য করবে। ফলে রক্তক্ষরণের মাত্রা কমে যায় এবং ব্যাথা কমে। অন্যদিকে জিএনআরএইচ খুব ভাল চিকিৎসাও হতে পারে। এছাড়া, ওষুধে কাজ না হলে সার্জারি। 

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় সম্ভব?

ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে আক্রান্ত অঞ্চলগুলো বাষ্পীভূত করে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিস্ট কেটে বাদ দিতে হয়। এই রোগে জরায়ু বাদ দেওয়া বা হিস্টেরেক্টমি অনেক সময় লাগতে পারে যদি বয়স বেশি বা বাচ্চার প্রয়োজন না হয়। এছাড়াও, এন্ডোমেট্রিওসিসের রোগীর গর্ভসঞ্চার হলে চিন্তার কিছু নেই। মা হওয়া সম্ভব ঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে। 

এন্ডোমেট্রিওসিস এড়ানো সম্ভব?

খেলাধুলো বা শরীরচর্চা দরকার। দুগ্ধজাত দ্রব্য, রেডমিট, কফি, গম থেকে তৈরি খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। অনেক সময় এন্ডোমেট্রিওসিসের কষ্ট সহ্য করতে গিয়ে ডিপ্রেশন তৈরি হতে পারে। এসময় বাড়ির লোকজনের সহমর্মিতা ও প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং করাতে হতে পারে ।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ভাল থাকুন।


একাত্তর/ এইচআরজি/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন