ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বাঁধ বোর্ডের নয়, সংস্কার করবে কে?

নিজস্ব প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২১ ১৯:০০:৪৩ আপডেট: ২৮ জুন ২০২১ ১৯:০১:০২
বাঁধ বোর্ডের নয়, সংস্কার করবে কে?

তিস্তায় ভাঙ্গনের মুখে পড়া নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোলপাড়া গ্রাম রক্ষা বাঁধ সংস্কারের দায়িত্ব কে নিবে তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী।

এদিকে দুই হাজার পাঁচশত মিটার দৈর্ঘ্যের রিং বাঁধটির প্রায় ৭০ মিটার অংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে এবং আরও প্রায় দেড়শ থেকে দুইশত মিটার ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে।  

ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রামটির প্রায় চার শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা ও ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।

ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের আবু তালেব (৪৮) বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। পানি কমে যাওয়ায় এখন বাঁধটিতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না’। 

একই গ্রামের মো. জামাল উদ্দিন (৭০) বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাঁধটি ভাঙ্গছে। কেউ দেখতেও আসছেন না। এখন ওই ভাঙ্গণের কবলে আমরা গ্রামবাসী ভিটামাটি হারানোর আতঙ্কে আছি।’

তারা জানান, বাঁধটি রক্ষা না হলে আসছে বর্ষায় নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে গ্রামের  ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। পাশাপাশি বসত ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হবে এবং কয়েক হাজার একর আবাদি জমির ফসল নষ্ট হবে। 

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, ‘বাঁধটি অনেক আগে তৈরী করা। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৩ সালে সিডিএমসি প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধটি সংস্কার করি। গত সপ্তাহ আগে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা বরাবর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীর পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ওই ভাঙ্গনে বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। আরো দেড় থেকে দুইশ মিটার অংশ ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আপাতত ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বাঁশ ও বালু দিয়ে ভাঙ্গন রক্ষার কাজ শুরু করেছি। এই মুহুর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন।’ 

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ওই বাঁধটি আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়। স্থানীয় লোকজন নদীর ভেতরে বাধটি নির্মাণ করেছেন। তবে বিষয়টি জানার পর পর্যবেক্ষণের জন্য গত রবিবার (২৭ জুন) সেখানে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’



একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন