ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কোভিড-১৯: নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২১ ১৩:১৯:৩৭ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২১ ১৩:২৭:৫০
কোভিড-১৯: নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো

করোনা ভাইরাস গেল দেড় বছরে গোটা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে এর মোকাবেলা করেই বাংলাদেশও চলছে প্রায় একই সময় ধরে। আমারা যেটা মেডিক্যাল স্কুলে শিখেছি এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জেনেছি, তা হল- একটি রোগের নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো। 

যদি প্রতিরোধের কাজটা সফলতার সঙ্গে করা যায়, তাহলে অন্য কিছুর আর প্রয়োজন হয় না। কোভিডের জন্যও কিন্তু আমরা একই পথ অনুসরণের চেষ্টা করছি। আমরা যদি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারি তাহলে কিন্তু সমস্যাটা মিটে গেল। 

তাই বর্হিবিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে আটকানোর দিকেই নজর দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর বড় কারণ হলো, সংক্রমিত হলে অনেকের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। আইসিইউ প্রয়োজন হয়, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও নিতে হয় কোন কোন ক্ষেত্রে। 

সেই পর্যন্ত যাওয়ার আগে আমাদের কিন্তু সবার আগে, নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করা উচিত সংক্রমণ থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করা। তা সেটি কিভাবে করা যায়?

প্রথমত, আপনারা জানেন যে এটি একটি ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস থাকে মানুষের কাঁশি-হাঁচি থেকে বায়ুকণার মধ্যে। সেখান থেকে এটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আপনি যদি হাঁচি বা কাঁশি দেন; সেটা কিন্তু এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত যেতে পারবে। 

আমাদের প্রথম প্রতিরোধ ব্যবস্থা হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমাদের উচিৎ করোনা ভাইরাস যতদিন আছে, ততদিন যেখানেই যাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা। 

দ্বিতীয়ত, মাস্ক পরা। একজন যদি মাস্ক পরে এবং আরেকজন যদি না পরে তাহলে কিন্তু মাস্কের কার্যকারিতা কমে যাবে। তাই বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং সেটা হতে হবে ভালো মানের মাস্ক। 

সাধারণত সার্জিক্যাল মাস্ক তিন লেয়ারের হয় এবং এটা ভালো। যদি দু’জন সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকে, তাহলে হাঁচি-কাশি দিলেও একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে আসবে। কাপড়ের মাস্কও পরতে পারেন। সাধারণত কাপড়ের মাস্ক দুই লেয়ারের হওয়া উচিত এবং মাঝখানে ফিল্টার থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়।

গামছা জাতীয় জিনিস বা ভাল্ব জাতীয় মাস্ক কিন্তু ভাল কাজ করে না। এগুলোতে যেটি হয়, আপনি যে বাতাসে নিচ্ছেন সেটি পরিশুদ্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু আপনি যেটি ছাড়ছেন সেটির মধ্যে কিন্তু বিভিন্ন রকমের জীবানু চলেই যাচ্ছে। মাস্ক পরা এখন সিঙ্গাপুর থেকে বিশ্বের বহু দেশেই বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। ফলে কিছুটা হলেও সংক্রমণ আটকানো গেছে।

তৃতীয়ত, হ্যান্ড স্যানিটাইজিং বা হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। এটা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। নিয়মিন হাত ধুবেন ১০-২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। সাবান ও পানির সংস্পর্শে আসলে কোভিড ভাইরাসটি ধংস হয়ে যায়। তাই হাত ধোয়া খুবই প্রয়োজনীয়। 

আমাদের কিছু কিছু অভ্যাস আছে, যেমন কথা বলার সময় হাতটা মুখের কছে নিয়ে যাই এবং অনেকের ধূমপানের অভ্যাস আছে। এ কাজগুলোর কারণে কিন্তু কোভিড জড় বস্তু থেকে আপনার মুখ পর্যন্ত চলে আসতে পারে। তাই মুখের কাছে হাত না দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। 

আরেকটি বিষয়, কোন পরিবহনে গাদাগাদি করে যাওয়াটা খুব ভয়াবহ। কারণ সেখান থেকে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তাই যেকোন ভিড় থেকে দূরে থাকা ভালো।

সবচেয়ে বড় যে বিষয়, সিঙ্গাপুরে যেটিকে কমিউনিটি মেডিসিন বলা হয়েছে, সেটি হল মানুয়ের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। আপনি যদি না জানেন করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় তাহলে আপনি কিভাবে সেটি থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন। তাই সামাজিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। 


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন