ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ভালোবাসার ভাষা

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২১ ১৫:১৬:২৭
ভালোবাসার ভাষা

ভালোবাসা। চার অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ। অথচ এক পৃথিবীর সব অনুভূতি যেন লেপটে আছে এই এক শব্দে। আমরা সবাই কাউকে না কাউকে ভালবাসি।

হোক সে বন্ধু, প্রিয়জন, কিংবা পরিবারের সদস্য ভালবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে কমবেশি আমরা সবাই কোন না কোন এক সময়ে হোঁচট খাই। ফলাফল-মানুষটা হয়তো ভেবেই বসে যে কাছের মানুষটি তাকে ভালবাসে না। সৃষ্টি হয় দুরত্বের।

ভালবাসাও কিছুটা গাছের মত, একে বাঁচিয়ে রাখতে দরকার আলো-বাতাস, আর নিয়মিত যত্ন। কীভাবে যত্ন নেবেন? একে প্রকাশ করুন, বাড়তে দিন নিজের মত।

নিজের মধ্যে বন্দি করে না রেখে স্বাধীন করে দিন। পাখা মেলে উড়ে যাবে বলে ভয় পাবেন না। হয়তো দেখবেন কবেই সে গাছের মাথা নিজের উচ্চতা ছাড়িয়ে আকাশে পৌঁছে গেছে, আর শেকড় রয়ে গেছে মাটিতে!

তবে ভালোবাসা প্রকাশেরও কিছু ভাষা আছে। প্রত্যেকটা মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা আলাদা, আলাদা সে ভাষা বোঝার ক্ষমতা।

নিজে কোন ভাষায় ভালোবাসেন, আর যার উদ্দেশ্যে এই ভালোবাসা, সে কোন ভাষা চিনতে পারে, তা বুঝতে পারলে সম্পর্কে অনেক ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। মনোবিদরা বলেন, ভালোবাসা প্রকাশের ভাষাকে মোটামুটি পাঁচ শ্রেণিতে ফেলা যায়:

মনের কথা মুখেও বলা

অনেক মানুষই আছেন যারা কাছের মানুষের মুখে ভালোবাসার কথা শুনতে পছন্দ করেন। প্রিয় মানুষের একটি কথা তার পুরো দিনের মনকে ভালো করে দিতে পারে। আবার একটি অপ্রিয় কথায় হতে পারে সপ্তাহভরের মন খারাপ। আপনার মানুষটি এমন কিনা তা বুঝতে তাকে বলে দেখুন আপনার মনের কথা।

তবে চার অক্ষরের শব্দটিই যে বলতে হবে তা কিন্তু নয়, তার প্রশংসা করে দেখুন, কিংবা বলুন আপনার জীবনে তার উপস্থি্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি খুশিতে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাহলে বুঝবেন আপনার কাজ হয়ে গেছে। এরপর থেকে চেষ্টা করুন শব্দের মাধ্যমে আপনার অনুভূতি প্রকাশ করতে, হোক সে মুখে বলে বা লিখে।


একসঙ্গে ভালো সময় কাটানো

প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটাতে কে না পছন্দ করে। কিন্তু জীবনের নানা ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময়ই ভুলে যাই পাশে থাকা মানুষগুলোর কথা। কিংবা হয়তো ভাবি, এক ঘরেই তো বাস, আলাদা করে সময় কাটানোর কী আছে!

রোজ রোজ দেখা হলেও তাদের মনের খবর হয়তো আমাদের রাখা হয় না। আর সেজন্যই শুধু সময় কাটানো নয়, একসাথে ভালো সময় কাটানো যেকোনো সম্পর্কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো সময় কাটানোর মানে হচ্ছে, একসঙ্গে মিলে সেসব কাজ করা যা উভয়ই উপভোগ করেন। যে সময় অন্য সবকিছুকে পাশে রেখে কিছুক্ষণের জন্য কেবল একে অপরের খোঁজ নেয়া যায়, মন খুলে কথা বলা যায়।

আর সেজন্য ঘুরতে যাওয়া কিংবা ঘটা করে কোন আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ঘরে বসে সুন্দর একটা সন্ধ্যা পরিকল্পনা করুন, পছন্দের সিনেমা দেখুন, বা একসঙ্গে নতুন রেসিপি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। কয়েক ঘণ্টা একসঙ্গে ভালো সময় কাটানো সম্পর্কের অনেক দুরত্ব দূর করতে পারে।


একে অপরের জন্য কিছু করা

অনেক সম্পর্কই এমন আছে, যেখানে চাইলেও একসঙ্গে বেশি সময় কাটানো অথবা সারাক্ষণ যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়না। আবার হয়তো আপনি বা সেই মানুষটি কথায় মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

সেসব ক্ষেত্রে ভালোবাসা প্রকাশের ভালো মাধ্যম হতে পারে তার জন্য এমন কিছু করা, যা তার জীবনকে সহজ করে দেবে, বা তার কোন সমস্যা দূর করে দেবে। একদিন অফিস থেকে বাসায় এসে থালাবাসন ধুয়ে দেখুন, ঘরের কাজে সাহায্য করে দেখুন।

গৃহিণী হোক বা কর্মজীবী, দেখবেন আপনার স্ত্রী ঈদের চাঁদ হাতে পাওয়ার মত খুশি হয়ে গেছেন। কিংবা সকালে উঠে নিজের বিছানা নিজে গুছিয়ে নিন, মায়ের কাছে আপনি হয়ে যাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো সন্তান।

উপহার আদান-প্রদান

ভালোবাসা প্রকাশে উপহার কেমন ম্যাজিকের মত কাজ করে সে সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। ঝগড়া কিংবা মনোমালিন্য হলে উপহার হতে পারে ক্ষমা চাওয়ার বাহানা।

তবে খেয়াল রাখবেন, আপনি ভুল করে থাকলে সে ভুল যেন আর দ্বিতীয়বার না হয়। বারবার একই ভুল করলে পরে কিন্তু শত উপহার দিয়েও কাজ না হতে পারে।

আসল কথা হচ্ছে, মাঝে মাঝে উপহার আদান-প্রদান করলে তা সম্পর্কে নতুন রসদ যোগায়। খুব বেশি বড় কিছু না, সামান্য উপহার পেলেও আপনি যে মানুষটির কথা একবার মনে করেছেন, সেটি ভেবেই প্রিয় মানুষটি আপনার জন্য নতুন করে ভালোবাসা অনুভব করবেন।


স্পর্শ

কথা বলে ভালোবাসা প্রকাশ তো হলো, কিন্তু কিছু না বলেও অনেক সময় অনেক কথা বলে ফেলা যায় অনায়াসে। সামান্য স্পর্শ আপনার মনের হাজার কথা মুহূর্তে বলে ফেলতে পারে।

কোন এক সময় বাবাকে জড়িয়ে ধরুন, সন্তানকে চুমু খান অথবা মাঝ রাস্তায় সঙ্গীর হাত ধরে ফেলুন। বিনা শব্দেই আপনার সব অনুভূতির জানান দেয়া হয়ে যাবে।

তবে হ্যাঁ, স্পর্শের ক্ষেত্রে সব সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন মানুষটি এর সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কিনা। তিনি সম্মত হলেই কেবল তাকে স্পর্শ করবেন।

প্রয়োজনে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে তার অনুমতি নেবেন, সে আপনার বাবা-মা, সন্তান, বন্ধু কিংবা সঙ্গী যেই হোক না কেন। এতে সম্পর্কে একে অপরের জন্য সম্মান- ভালোবাসা বাড়বে।

শেষের কথা

ভালোবাসা শুধু অনুভব করার জিনিস নয়, আর সবকিছুর মতো এর চর্চা করতে হয়। তবেই তা বেঁচে থাকে। নিজের ভালোবাসা প্রকাশের ভাষাকে বোঝা, আর অন্যরা কীভাবে তা গ্রহণ করছে তা বোঝা দুটোই অত্যন্ত জরুরি।

সবার ক্ষেত্রে যে পাঁচটি ভাষাই প্রযোজ্য হবে এমনটা নয়। বেশিরভাগ মানুষই এই পাঁচটির মধ্যে দু-তিনটি ব্যবহার করেন। আপনি কোন ভাষায় ভালোবাসেন, আর আপনার ভালোবাসার মানুষগুলো কোন ভাষা বেশি পছন্দ করেন তা বুঝতে তাদের প্রতিক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দিন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষ নিজে যে ভাষায় প্রকাশ করে সেই ভাষাতেই ভালবাসা পেতে বেশি পছন্দ করে। একটু মাথা খাটিয়ে এই দুটো বের করে ফেললে দেখবেন আপনার জীবনের সম্পর্কগুলো আগের চেয়ে অনেক সহজ আর মধুর হয়ে গেছে।


একাত্তর/এসজে 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন