ঢাকা ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২১ ১৪:১১:৪২ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২১ ১৬:৩৮:৩৮
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে ইটের সলিংয়ের পরিবর্তে পলিথিন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বাড়ির নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। 

নিম্মমানের ঢালাইয়ে কেবল ঘরের ফ্লোরই নির্মাণ করা হয়নি। সদরের শিলইয়ের ৭৮টি আধা পাকা ঘরের দেয়াল ও পিলারে বালুর সাথে মেশানো হয়নি প্রয়োজন মতো সিমেন্ট। ঘরের উচ্চতা ১০ ফুটের উপরে করার কথা থাকলেও, আট ফুট উঁচুতে বসেছে ঘরের চাল। স্বপ্নের বাড়িতে বসবাস করতে যেয়ে মাস খানেক না যেতেই ভেঙে পড়েছে ঘরের দেয়াল, আর ফেটে ফেটে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর। উপজেলা প্রশাসনের এতো বড় দুর্নীতির সঠিক বিচার দাবি করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। 

তিন সন্তানের জননী বৃদ্ধা আয়েশা বেগম, যে কোন দিন স্বপ্নেও ভাবেনি নিজে জায়গা আর ইটের ঘরের মালিক হবে। প্রধানমন্ত্রী সে অভাবনীয় স্বপ্ন পূরণ করেছেন। বিনামূল্যে পাওয়া সে ঘরে মনের আনন্দে বসবাস শুরু করলেও মাস খানেক না যেতেই ঘরের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিলে, জীবনের ঝুঁকি কমাতে ঘর ছাড়তে হয় তাদের।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় মুজিববর্ষে উপহার দেয়া ঘরে নানা সমস্যা


আয়েশা বেগমের ঘরের মতো, এখানকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৮টি ঘরেরই একই চিত্র। বালুর উপর ইটের সলিং না দিয়ে পলিথিন বিছিয়ে ফ্লোরে ঢালাই দেওয়া হয়েছে, তাও মেলেনি প্রয়োজনীয় সিমেন্ট। পুরো ঘরের দেয়ালের ও পিলারের কাজও হয়েছে নিম্মমানের। সেই সাথে ঘরের উচ্চতা কম ছিলো দুই ফুট।

ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া যাবে না মর্মে নির্দেশ অমান্য করে, সদরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিখিত ঠিকাদার দিয়ে দুজনে যোগসাজশ করে নিম্ম মানের বা দুর্বল সামগ্রী দিয়ে কাজ করেন। যার ফলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া ঘরগুলো সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান। প্রকল্প পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস এমপি প্রকৃত দোষীদের অনিয়মের বিচার দাবি করেন।

আরও পড়ুন: ঢাকার সাথে হাওরবাসীর সড়ক যোগাযোগ শুরু হবে শিগগির

অনিয়মের অভিযোগ এনে সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু, ভূমি কর্মকর্তা শেখ মেজবাউল সাবেরিন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে ওএসডি করা হয়েছে। 


একাত্তর/এসজে 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন