ঢাকা ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

করোনা পরবর্তী শারীরিক সমস্যা ও ডায়েট

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১ ১৮:৩৫:৩৬ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২১ ১৩:৫৮:৩১
করোনা পরবর্তী শারীরিক সমস্যা ও ডায়েট

করোনা থেকে সেরে ওঠার পরও মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব সমস্যা কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত শরীরে থেকে যায়।

এ সময় খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে তা এসব সমস্যা মোকাবেলা করে আগের সুস্থ অবস্থায় ফিরে যেতে সাহায্য করবে।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেকেরই যে সমস্যা দেখা দেয় তা হলো শারীরিক দুর্বলতা। এ দুর্বলতার কারণে অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। সেরে ওঠার পর প্রায় চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এ সমস্যা থাকতে পারে।

এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সুষম খাদ্য খেতে হবে। সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে প্রতিদিনের খাবারে বেশি পরিমাণে ভালো মানের আমিষ বা প্রোটিন থাকতে হবে।

আমিষ জাতীয় খাদ্য মানুষের শরীর গঠনের মূল উপাদান। করোনায় আক্রান্ত হলে শরীরের মাংস পেশিতে প্রোটিনের ক্ষয় হয়। এই ক্ষয় পূরণে খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখতে হবে।

তবে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিনযেন না খাওয়া হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। বিশেষ করে, কিডনি রোগ বা হৃদরোগ থাকলেএ ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবংঘুমের দিকেও নজর রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, একবারে বেশি কাজ না করে যেন ধীরে ধীরে কাজ কর্মের পরিমাণ বাড়ানো হয়।

করোনা পরবর্তী সময়ে আরেকটি লক্ষণ হলো, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া। এক্ষেত্রে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের যথাযথ খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে চলতে হবে।

পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল চর্বিযুক্ত খাবার ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

তবে, বুকে ব্যথার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আরও যেটি সাহায্য করতে পারে তা হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। নিয়মিত করলে, ধীরে ধীরে সমস্যা কেটে যেতে সহায়তা করবে।

করোনার আরেকটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো, ঠাণ্ডা ও সর্দি কাশির সমস্যা। অনেকের মধ্যে হাঁচি-কাশির সাথে নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

এটি সমাধানে সকাল বেলা তুলসি পাতার রস খাওয়া ভালো কাজে দিতে পারে। অথবা, মধু দিয়ে গোলমরিচ গুড়ো খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে নিয়মিত গরম পানির ভাপ নেওয়া ও গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করার অভ্যাস করতে হবে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ১৪-১৫ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় আইসোলেশনে কাটালে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা স্বাভাবিক। অনেকেরই দেখা যায় করোনা থেকে সেরে ওঠার পর ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়। এ থেকে কেউ কেউ আবার মানসিক উদ্বেগ বা বিষণ্ণতায় ভোগেন।

এমন সময়ে নিজের মনের জোর বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে অন্যকে সাহস দিতে হবে যে, করোনা অজেয় কোন বিষয় নয়। এটি থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসা সম্ভব। তা হলে নিজের মনোবলও বৃদ্ধি পাবে।

আর ভালো ঘুমের জন্য রাতে ঘুমানোর আগে হলুদ দিয়ে হালকা গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে। ক্যামোমিল চা ঘুম হতে বেশ কাজে দেয়। প্রয়োজনে মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়া যেতে পারে, যা ঘুমের জন্য খুবই উপকারি। এসব খাবার মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে যাতে সহজে ঘুম আসে আর ভালো ঘুম হয়।

আরেকটি সমস্যা হলো, মাঝে মাঝে হালকা জ্বর আসা। এরকম হলে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। তবে, খাবার যেন সহজ পাচ্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, আর অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে। খাবারের তালিকায় দুধ, স্যুপ, বাদাম আর বীজ জাতীয় খাবার বেশি রাখতে হবে।

এছাড়া, শক্তি আর ফিটনেস বাড়াতে ওমেগা-৩যুক্ত খাবার খুবই জরুরি। বাদাম জাতীয় খাবারে এই ওমেগা-৩ অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। তাই কাঠবাদাম, চিয়াবীজ এসব খাবার দৈনিক খাবারের তালিকায় রাখতে হবে।

অনেকের ক্ষেত্রেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে পেটে সমস্যা থাকে। এ সমস্যা সমাধানে 'প্রো-বায়োটিক' খাবার খুব কাজে দেয়। সবচেয়ে সহজলভ্য প্রো-বায়োটিক খাবার হলো টকদই। নিয়মিত টকদই খেলে তা পেটের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

সেই সঙ্গে সকাল বেলা খালি পেটে বা অন্যসময়ে ভাতের সাথে রসুন খেলে তা প্রো-বায়োটিকের কাজ করে। রসুনে প্রচুর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় এটি যে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করবে। সেসঙ্গে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় যে ফাটল দেখা দেয় তা মেরামত করতেও সাহায্য করে রসুন।

এছাড়া, শরীরকে ভালো রাখতে পানির বিকল্প নেই। প্রতিদিন অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। শুধু পানি খেতে ভালো না লাগলে পুদিনা পাতা মিশিয়ে, দই দিয়ে লাচ্ছি বানিয়ে বা ফলের রস বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। বেশি বেশি পানি খেলে তা যে কোনো রোগব্যাধিকে দূরে রাখবে এবং শরীরের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।

সবশেষে, শরীরকে আগের মতো সুস্থ স্বাভাবিক করে তুলতে সব সময় মনে জোর রাখতে হবে।





একাত্তর/এইচআরজি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন