ঢাকা ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে প্রথম সড়ক তৈরি হলো নাটোরে

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১ ১৩:৪৭:৪৬ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২১ ০৯:৪২:০০
পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে প্রথম সড়ক তৈরি হলো নাটোরে

ইট ব্যবহার করে সড়ক, মহাসড়ক এবং স্থাপনা নির্মাণের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। অন্যদিকে আবাদি জমি কেটে বা জমির টপ সয়েল কেটে ভাটাগুলো ইট তৈরীর ফলে বিপুল পিরমাণ আবাদি জমি কমে যাচ্ছে প্রতি বছর। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ২০২৪ সালে মধ্যে গ্রামীণ সড়কে বিটুমিনাস কার্পিটিং এবং ইটের ব্যবহার না করে শতভাগে উন্নীত করতে চায় ইউনি ব্লকের ব্যবহার।

তারই ধারাবাহিকতায় দেশে প্রথমবারের মতো নাটোরে বিটুমিনাস এবং সাধারণ ইটের সড়কের পরিবর্তে বালু এবং পাথরের তৈরী পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে সড়ক তৈরি করলো নাটোরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিবেশবন্ধব এসব ইউনি ব্লকের ব্যবহার বাড়লে ইটের ব্যবহার বন্ধ হবে এবং দেশের আবাদি জমি রক্ষা পাবে, পরিবেশ দূষণ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বিটুমিনাস দিয়ে সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। যেখানে ইউনি ব্লক দিয়ে সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতি তিন বছরে বিটুমিনাস সড়ক মেনটেনেন্সে খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হলেও ইউনি ব্লকে খরচ হবে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৫০কিমি গাড়ির জট

নাটোরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহি প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার এই ধরনের ইট দিয়ে সড়ক এবং সরকারী বাসভবন নির্মাণের উপর জোর দিয়েছেন। সেকারণে এবছর ১০ শতাংশ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে ইউনি ব্লক দিয়ে। সাধারণ ইটের চাপ নেয়ার ক্ষমতা ১৭ এমপিএ হলেও ইউনি ব্লকের ৩৫ এমপিএ চাপ নেয়ার ক্ষমতা আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিটুমিনাস কার্পেটিং করতে পিচ পোড়াতে হয় ফলে পরিবেশেরে অনেক ক্ষতি সাধিত হয়। তাছাড়া বর্ষায় বিটুমিনের কাজ করা যায়না। কিন্তু ইউনি ব্লক দিয়ে বর্ষায়ও কাজ করা যাচ্ছে। বৃষ্টিতে বা জলাবদ্ধতায় বিটুমিনের সড়ক নষ্ট হলেও ইউনি ব্লক দিয়ে তৈরী সড়ক নষ্ট হবেনা। ইউনি ব্লক দিয়ে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের পদ্ধতিও অনেক সহজ।

নাটোর জেলায় এবছর ইউনি ব্লক দিয়ে পাঁচটি গ্রামীণ সড়কের ৭.৫ কিলোমিটার রক্ষনাবেক্ষণ কাজ চলছে। যাতে ব্যয় হচ্ছে ৪.৫ কোটি টাকা। 

নির্বাহি প্রকৌশলী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নগরায়ন, শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আবাদযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। ইট তৈরীতে যেহেতু মাটি অথবা টপসয়েল ব্যবহার করছে ভাটাগুলো ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইট ভাটাগুলো জ্বালানি হিসাবে প্রচুর পরিমাণ কাঠ পোড়ায়। তাই ইটের ব্যবহার বন্ধ করতে ইউনি ব্লক দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা গেলে একদিকে যেমন আবাদি জমিকে রক্ষা করা যাবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে।


এলাকাবাসীও খুশি এই রাস্তানিয়ে। আওড়াইল গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, এই সড়কে অন্যান্য সড়কের চাইতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। ভেজা রাস্তায় গাড়ি চালালেও কোন স্লিপ করেনা কিন্তু বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়কে স্লিপ করে অনেক দুর্ঘটনা হয়।

সুলতানপুর গ্রামের এরাশাদ আলী তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি জীবনে এমন সড়ক দেখেননি। 

সড়কটির দুই পাশে লাল রংয়ের ইট এবং মাঝখানে সাদা রংয়ের ইউ ব্যবহার করায় খুবই সুন্দর লাগে দেখতে। সেকারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সড়কটি দেখতে লোক আসে তাদের গ্রামে।

আরও পড়ুন: গুরুদাসপুরে গৃহবধুকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ

তবে একই গ্রামের আবুল হোসেন কিছুটা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার কাজ খুবই ভাল হয়েছে। তবে সোল্ডারে ঠিকমতো মাটি না দেওয়ায় কোথাও কোথাও ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এবিষয়ে ঠিকাদার মো. সোয়াইব হোসান মাসুদ বলেন, তারা কাজটি করছেন মেসার্স এসএম কর্পোরেশন এবং আনিছুর রহমান বিল্ডার্স এর নামে। কাজটি নতুন হওয়ার ফলে তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। তবে ইউনি ব্লক নাটোরে স্থানীয়ভাবে তৈরী না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আনতে হয়েছে। ফলে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। যদি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এবং সরবরাহ করা যেত তবে ভাল হতো।

ইউনি ব্লকের কাজ জীবনে প্রথম করলেও এই ধরনের পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে দেশের জন্য ভাল হবে বলে মনে করেন তিনি।


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন