ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে বন্ধ থাকবে লঞ্চ চলাচল

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২১ ১৫:৫৫:২৭ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২১ ০৯:৪২:৩৫
ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে বন্ধ থাকবে লঞ্চ চলাচল

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়া এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ার কারণে লঞ্চঘাটের পল্টুন সরিয়ে ফেলায় বন্ধ করা হয়েছে লঞ্চ চলাচল। এর ফলে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের পর আগামীকাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও এই ঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া মানুষের জন্য তা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলো।  

বুধবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চোখের পলকেই বড় বড় মাটির চাপ ভেঙ্গে পড়ছে। সাথে দীর্ঘদিনের পুরনো গাছ ও বসতবাড়ি নদীতে বিলিন হচ্ছে। এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় যে যার মতো করে নিজ নিজ জিনিসপত্র সরাতে ব্যস্ত। 

এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. মিলন মিয়া জানান, ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের পল্টুন ঘাট থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে যে কারণে নতুন করে ঘাট স্থাপন না করা পর্যন্ত আপাতত বন্ধ থাকবে লঞ্চ চলাচল।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমাছ হোসেন দাবী করেন, চোখের নিমিষে এক ঘণ্টায় মানুষের ঘরবাড়ি-বসতভিটাসহ অন্তত ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। 

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা

হাজেরা খাতুন নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে এক সপ্তাহ আগে থেকেই ভাঙ্গন দেখা দিলেও শুধুমাত্র পরিদর্শন ছাড়া কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিআইডব্লিউটিএ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিনি আরো বলেন, সকালে যে ভাঙ্গন হয়েছে এতে তারসহ অন্তত পনেরটি বসতবাড়ির ঘর আসবাবপত্রসহ নদীতে বিলিন হয়েছে। 

এদিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম আশরাফ বলেন, ঘাট কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার ব্যাবস্থা গ্রহণের ব্যপারে বললেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যে কারনে আজ ১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। সরিয়ে নিতে হয়েছে আরো অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি। 


গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা মুন্সী জানান, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাউবোসহ ঊর্ধ্বতন মহলকে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। জরুরি নদী শাসনের কাজ না করা হলে মানচিত্র থেকে হয়ত দৌলতদিয়ার নাম মুছে যাবে। 

এদিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গভীরতাও অনেক যে কারণে এখানে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন: পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে প্রথম সড়ক তৈরি হলো নাটোরে

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ঘাট এলাকায় আমাদের ভাঙনরোধে দুইটি প্যাকেজ চলমান আছে। তাছাড়া ১ নম্বর ঘাট থেকে ৭ নম্বর ঘাট পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ-এর কাজ করার কথা। যেহেতু হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে আমরা জরুরী ভিত্তিতে বুধবার সকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছি। ভাঙনরোধে ভাঙন ঠেকানো পর্যন্ত যত ব্যাবস্থা নেওয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ড তা নিবে। 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন এবিষয়ে বলেন, মূলত ভাঙন শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে যা অব্যাহত রয়েছে। এই ভাঙনে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের কথা জানার পর প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে তাদের ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। 


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন