ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

নীলফামারীতে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার ওপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২১ ১৯:২৯:০৪ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২১ ২৩:০৮:৩১
নীলফামারীতে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার ওপরে

নীলফামারীতে তিস্তার পানি উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে আবারও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। 

এদিকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরের ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চরগ্রামে সামান্য পানি প্রবেশ করলেও এখনও কোনো পরিবার পানি বন্দি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত দু’দিন থেকে তিস্তা নদীর উজান ভারত অংশে ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও এরপর থেকে বৃদ্ধি পায় নদীর পানি। বিকাল ৩টায় নয় সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টা আরও চার সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুরের পর থেকে বিপৎসীমার  নিচে নামে নদীর পানি। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদী বেষ্টিত পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামসহ ছয়টি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রামে সন্ধ্যার দিকে নদীর পানি প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন: নাটোরে বড়াল নদীতে যুবক নিখোঁজের একদিন পর মরদেহ উদ্ধার

একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে, সন্ধ্যার দিকে ইউনিয়নের টাবুর চর, পূর্বখড়িবাড়ী, পাগলীর বাজার, বাংলাবাজার গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এসব চরগ্রামের ছয়শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও এক থেকে তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাত থেকে নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যারাজের সব ক’টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। 

এদিকে ভারতীয় কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের ওয়েব সাইটে দেখা যায়, তিস্তার উজান ভারত অংশে গেলো ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৯২ দশমিক ২ মিলিমিটার। ভারি বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৮৫ দশমিক ৯৫ মিটার) পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর নদীর পানি কমে বিকাল ৩টায় সাত সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং সন্ধ্যা ৬টায় আরও কমে  বর্তমানে ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  সেখানে পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ জুলাই উজানের ভারি বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমা ছাড়ায় তিস্তার নদীর পানি। ওই দিন দুপুর পর্যন্ত বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি হয়। এতে নদীর তীরবর্তী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রাম নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন