ঢাকা ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

লকডাউনেই রমরমা হয় রাজের পর্নোগ্রাফি ব্যবসা

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২১ ১৮:৩৬:৪৬
লকডাউনেই রমরমা হয় রাজের পর্নোগ্রাফি ব্যবসা

পর্নগ্রাফি ফিল্ম তৈরির অভিযোগে সোমবার (১৯ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রাকে। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের  অনুসন্ধানে উঠে আসে রাজের কু-কীর্তির আদ্যোপান্তো।

মাত্র দেড় বছরে পর্ন ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন রাজ কুন্দ্রা। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য জানতে পারে মুম্বাই প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রশাসনের দাবি, লকডাউন শাপে বর হয়েছিল অভিযুক্তের কাছে। ওই সময়েই রাজের পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। 

নিজেকে আড়ালে রাখতে প্রচুর মাথা খাটিয়েছিলেন রাজ। পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে রাজ ‘আর্মস প্রাইম মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা খোলেন। তার ছয়মাস পরেই সংস্থাটি ‘হটশট’ নামে একটি মুঠোফোন অ্যাপ তৈরি করে। পরে এই অ্যাপটি পুলিশের খাতায় ‘পর্ন অ্যাপ’ নামে চিহ্নিত হতেই পর্ন ভিডিও পাঠানোর পদ্ধতি বদলে ফেলেন রাজ। সন্দেহ এড়াতে উইট্রান্সফারের মাধ্যমে ভিডিও পাঠাতে থাকেন।


যুগ্ম নগরপাল (অপরাধ শাখা) মিলিন্দ ভরাম্বে জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন রাজের আমেরিকাবাসী শ্যালক প্রদীপ বক্সী। শ্যালকের লন্ডনের পর্নোগ্রাফি সংস্থা কেনরিন লিমিটেডকে সাহায্য করতেই দেশে পর্ন হাব খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশের নজরে পড়লে কী করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেবেন, তার জন্য ‘বলি ফেম’ নামে আরও একটি পরিকল্পনা ছিল রাজের।

যেভাবে প্রকাশ্যে আসে রাজ কুন্দ্রার কু-কীর্তি?

মুম্বাই পুলিশ জানায়, ২০২১-এর ৪ ফেব্রুয়ারি জোর করে পর্ন ছবিতে নামানোর অভিযোগ জানান এক নারী। এর পরেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশ। প্রশাসন সূত্র খবর, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলিউডে অভিনয়ের জন্য আসা উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রীদের ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন রাজ এবং তার সংস্থা। শ্যুটের দিন চিত্রনাট্যে বদলে ভয় দেখিয়ে জোর করে তাদের নগ্ন করা হতো। আক্রান্তরা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের শ্যুটের যাবতীয় খরচ বহনের হুমকি দেওয়া হতো।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, ছবি তৈরির পর তার বিজ্ঞাপনও নেটমাধ্যমে প্রচার করতে হতো অভিনেত্রীদেরই। কারণ, ভারতে পর্ন ছবি এখনও বেআইনি। তাই সরাসরি ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের প্রচার সম্ভব নয়। পুলিশের দাবি, যদিও অভিনেত্রীরা যেভাবে প্রচার চালাতেন সেটিও বেআইনি।

কোথায়, কী ভাবে শ্যুটিং হতো?

পুলিশের দাবি, মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে মাড আইল্যান্ডের ভাড়া নেওয়া একটি বাংলোয় দিনভর শুটিং হতো। উপস্থিত থাকতেন পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী। তারাই পরিচালনা করতেন। সংলাপ লিখতেন। শ্যুটিংয়ের জায়গা বাছতেন। প্রযুক্তির দিকটিও দেখতেন। প্রশাসনের কথায়, রাজের আনা নতুন অ্যাপ ‘হটশট’ লকডাউনের সময় প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কয়েক মাসে যার গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল কয়েক লাখ!


রাজের ভূমিকা কী ছিল?

পুলিশের নজর দুটি দিকে ছিল। যারা এই ধরনের ছবি বানাতেন, তাদের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছিল প্রশাসন। যারা ক্লিপগুলি সম্প্রচার করতেন, তাদের খোঁজ চলছিল। এর মধ্যে কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থা দেশের বাইরে থেকে ছবি সম্প্রচার করতো।

এই রকমই একটি প্রযোজনা সংস্থার কার্যনির্বাহী অফিসার উমেশ কামাত ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। ব্রিটেনের এই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযোগ, তিনি ভারতে তৈরি পর্ন ছবি নিজের অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতেন। এ বিষয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিন আয় ও দেশের বাইরে বসে পর্ন ছবি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করতেন।

রাজ কুন্দ্রার কত আয়?

তদন্তে নেমে মুম্বাই অপরাধ শাখা জানতে পেরেছে, কুন্দ্রা প্রথম দিকে অ্যাপ থেকে প্রতিদিন ২-৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। লকডউনে সেই আয় বেড়ে হয়েছিল ৬-৮ লাখ টাকা। যুগ্ম নগরপাল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাজের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা আটক করেছে প্রশাসন।

সূত্র: আনন্দবাজার

একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন