ঢাকা ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে এমপি-মন্ত্রীদের শোক

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২১ ১০:২৫:৫৩ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২১ ০৯:৩৬:০৪
ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে এমপি-মন্ত্রীদের শোক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একাত্তরের কণ্ঠ-যোদ্ধা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এমপি-মন্ত্রীরা। তারা এ গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে শুরু করে শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত শোক জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্যরা।

শোকবার্তায় পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলন সংগ্রামে তিনি তার (ফকির আলমগীর) গান দিয়ে সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণ-শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তিন ষাটের দশকে বিভিন্ন সংগ্রাম এবং গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও সামরিক শাসন বিরোধী গণআন্দোলনে তার গান দিয়ে শামিল হয়েছিলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ফকির আলমগীর ছিলেন এদেশের কিংবদন্তীতুল্য গণসঙ্গীত শিল্পী। বাংলাদেশের সকল ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তার গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ফকির আলমগীর তার গানের মধ্যে দিয়ে এদেশের মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। 

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী মোজাম্মেল হক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের গণসঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ফকির আলমগীরের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

প্রসঙ্গত, ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে গত চারদিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ফকির আলমগীর। শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে এ গুণী শিল্পীর মৃত্যু হয় বলে তার ছেলে মাশুক আলমগীর রাজিব গণমাধ্যমকে জানান। মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

আরও পড়ুন: করোনায় মারা গেলেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর

ফকির আলমগীরের ডান ফুসফুসের ক্রমশ উন্নতি হলেও বাঁ ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে শুক্রবার (২৩ জুলাই)। পাশাপাশি রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শঙ্কিত ছিলেন চিকিৎসকরা। তার মধ্যেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায়।

করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরেও গত ১৪ জুলাই এই সংগীত শিল্পীর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

ইউনাইটেড হাসপাতালের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার সাজ্জাদুর রহমান শুভ বলেন, করোনাভাইরাস তো ছিলোই। তার মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে।

ষাটের দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন এ গুণী শিল্পী।

সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করতেন।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন