ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পদ্মার ভাঙ্গনে হুমকিতে রাজবাড়ী শহররক্ষা বাধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২১ ১২:৫৯:২১ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১ ০৯:৪৪:১০
পদ্মার ভাঙ্গনে হুমকিতে রাজবাড়ী শহররক্ষা বাধ

রাজবাড়ীতে ভাঙ্গনের মুখে পরেছে শহর রক্ষা বাধের স্থায়ী পাইলিং। এরিমধ্যে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পদ্মায় বিলিন হয়েছে চারটি পয়েন্টে অন্তত ছয়শ মিটার এলাকা।  

বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে রাজবাড়ী জেলা শহরের গোদার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একের পর এক বড় বড় মাটির চাপ স্থায়ী পাইলিং এর খন্ডসহ নদীতে বিলিন হচ্ছে। আর একটু ভাঙ্গলেই ভাঙ্গবে শহর রক্ষা বাধ। সেক্ষেত্রে শহর রক্ষা বাধে বসবাস কারীরা হয়ে পরবে দিশে হারা। শহরবাসি পরতে পারে পানির নীচে।

রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের তথ্যমতে, ভাঙন রোধে ২০১৮ সালের জুন মাসে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের ডান তীর প্রতিরক্ষা (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাটে তিন ও মিজানপুরে দেড় কিলোমিটারসহ সাড়ে চার কিলোমিটার এবং ২০১৯ এর জুলাইয়ে শুরু হওয়া (প্রথম সংশোধিত) শহর রক্ষা বাঁধের গোদার বাজার অংশের আড়াই কিলোমিটারসহ মোট সাত কিলোমিটার এলাকায় ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের জন্য ৮.৩ কিলোমিটার অংশে ৪৯ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার সময় হঠাৎই ভাঙ্গন শুরু হয় রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাধের ৭০ মিটার নিকটে থাকা স্থায়ী পাইলিং এ। মুহুর্তের মধ্যেই বিলিন হয় ৪২ মিটার এলাকা। এরপর মধ্যরাত ও ভোরবেলায় আরো ৩ টি পয়েন্টে দেখা দেয় মারাত্বক ভাঙ্গন। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে শহর রক্ষা বাধে বসবাসকারী শত শত পরিবারের। তারা অভিযোগ করেন, সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরও তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত কাজের জন্য বারবার বিপদে পরছে তাদের জীবন। 

আরও পড়ুন: গভীর রাতে পাহাড় ধস, ঘুমন্ত পাঁচ ভাইবোনের মৃত্যু

এবিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, রাজবাড়ী শহরের সিলিমপুর, গোদার বাজার থেকে বরাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী পাইলিং এর কাজ চলছে। পদ্মার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙ্গনরোধে বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেছেন তারা। 

এব্যপারে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সালমা চৌধুরী রুমা একাত্তরকে বলেন, রাজবাড়ী আমার শহর। রাজবাড়ীর মানুষ এত বড় বিপদে পরতে যাচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মহোদয়ের কাছে লিখেছি। ভাঙ্গনের ছবি পাঠিয়েছি। সেই সাথে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, সরকারের এত বড় একটি প্রকল্পে যারা দেখভালে জড়িত তাদের কোন গাফিলতি আছে কিনা সে বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন। তাই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করারও আহ্বান জানিয়েছি। 



একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন