ঢাকা ২০ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

একসাথে ৩ ডোজ টিকা নিয়ে হাসপাতালে ফতুল্লার ফারুক

নিজস্ব প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২১ ১৩:৩৬:১১ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২১ ১৩:৫০:১১
একসাথে ৩ ডোজ টিকা নিয়ে হাসপাতালে ফতুল্লার ফারুক

একসাথে করোনার তিন ডোজ টিকা নিয়েছেন ফতুল্লার ওমর ফারুক। এ ঘটনার পরই নিখোঁজ হন তিনি। পরে জানা যায়, ফারুক বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

বুধবার (২৮ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় ওমর ফারুকের বাসায় গেলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, এদিন দুপুরে ওমর ফারুককে অপরিচিত লোকজন ডাক্তার পরিচয়ে বাসা থেকে নিয়ে গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান জানান, তিন ডোজ টিকা নেওয়া যুবক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে র‍্যাব সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।  

তবে তিন ডোজ নয়, ওমর ফারুককে এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

জানা গেছে, সৌদি-আরবে যাওয়ার আগে করোনার টিকা নিতে সোমবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ওমর ফারুক। তিনটি বুথ থেকে তিন ডোজ টিকা নেন তিনি। এ খবর জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।

ওমর ফারুকের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, কিছুদিন আগে সৌদি আরবের ভিসা পেয়েছেন ফারুক। প্রবাসী অ্যাপ থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করে গত ২৬ জুলাই সকালে পিজি হাসপাতালে টিকা নেওয়ার জন্য যান। সেখানে প্রথমে একটি বুথে ফাইজারের টিকার এক ডোজ দেওয়া হয়। ওমর ফারুক ওই বুথের স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে জানতে চান, এখন সে কী করবে? তখন তাকে পরের বুথে যেতে বলেন তারা। পরে বুথে গেলে তাকে আবার টিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বুথ থেকে তাকে তৃতীয় বুথে পাঠানো হলে সেখানেও তাকে আবার টিকা দেওয়া হয়। 

ওমর ফারুকের বোন ফারজানা বলেন, টিকা নেওয়ায় তার ভাই ওমর ফারুকের শরীরে থেমে থেমে জ্বর আসছিল, শরীরে ব্যথা হয়েছিল। এছাড়া তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তাকে ডাবের পানি, দুধ ও ডিম খাওয়ানো হয়েছিল। তিন টিকা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে পিজি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য মুঠোফোনে অনেকবার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তার ভাই ভয়ে হাসপাতালে যেতে চাননি। পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। 

বুধবার বেলা ১২ টার দিকে মেডিকেল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে ওমর ফারুককে নিয়ে যায়। এসময় তার সাথে ছিলেন ভগ্নিপতি গোলাম সারোয়ার নাহিদ। ঢাকার পিজি হাসপাতালে যাওয়ার পর গোলাম সারোয়ার টিকিট কাটতে পাঠিয়ে ওমর ফারুকসহ ডাক্তারের ওই টিম চলে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওমর ফারুকের কোন সন্ধ্যান মেলেনি এবং তার ফোন নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।

সন্ধ্যার পর ওমর ফারুক তার মাকে ফোন করে জানান, তিনি পিজি হাসপাতালে আছেন ভালো আছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে, এখনও চিকিৎসক আসেননি। আসলেই চিকিৎসা শুরু হবে। পরে ওমর ফারুকের বাবা ঢাকায় যান। তবে তার বাবার সাথে ফারুকের দেখা হয়েছে কিনা এমন খবর নিশ্চিত করতে পারেনি স্বজনরা। 

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে একই পরিবারের ৭ জনসহ ৯ রোহিঙ্গা আটক

ওমর ফারুক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভুঁইগড় এলাকার জামাল হোসেন প্রধানের ছেলে। তার চার বয়সী এক ছেলে আছে। গত চার বছর আগে সে ভুঁইগড় মিছির আলী মাদ্রাসা থেকে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। সম্প্রতি তার সৌদি আরব যাওয়ার ভিসা হয়।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন