ঢাকা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

এক খরচে ৩০ বছরের আয়, পঞ্চগড়ে এখন জনপ্রিয় সুপারি চাষ

রফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১ ১৭:০৩:৩০
এক খরচে ৩০ বছরের আয়, পঞ্চগড়ে এখন জনপ্রিয় সুপারি চাষ

পঞ্চগড় জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ নিজের প্রয়োজনসহ প্রতিবেশী কিংবা অতিথি বাড়িতে আসলেই শুরুতেই সমাদর হতো পান সুপারি দিয়ে। তাই গ্রামঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের বাড়িতে দেখা যেত সুপারির গাছ। প্রয়োজনের পর বাড়তি সুপারি বাজারে বিক্রি করেও হতো লাভবান। 

বর্তমানে পঞ্চগড়ে ব্যপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুপারির চাষ। বাগান ভিত্তিক ছাড়াও এখন মানুষ আনাচে কাঁনাচে পরিত্যক্ত, অনাবাদিসহ আবাদকৃত জমিতে এমন কি বাড়ির আঙ্গিনাতেও সুপারি চাষ করছেন এলাকার লোকজন। 


বিনা খরচে বাড়তি আয় হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়ছে এ চাষের পরিধি। গত কয়েক বছর থেকে বাজার মূল্য ভালো থাকায় এখন অনেকেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুপারির চাষ করছেন। জেলায় ৪৪৫ হেক্টর জমিতে ছোট বড় মিলে প্রায় ৫০০টি সুপারির বাগান গড়ে উঠেছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। 

এক একটি গাছে সুপারির ফলন ধরেছে ৪ থেকে ৫ পন (৮০ থেকে ১০০ হালি)। আর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত চলে সুপারি বেচাকেনা। জুনের পর থেকে আবারও শুরু হয় ফলন, আর গাছ রোপনের উপযুক্ত সময় হলো বর্ষা মৌসুমে। এ জেলার সুপারির জাত, স্বাদ, রং আকারে বড় হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি, তাই দামও পাচ্ছে আশানুরুপ। 

গত বছরের তুলনায় এবছরে দাম পেয়েছে দ্বিগুন, প্রতি পন সুপারি বিক্রি হয়েছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা। এ চাষে নেই কোন ঝুট ঝামেলা, খরচ ছাড়াই প্রতি বছরে আসে শুধু আয়। তাই লাভজনক ফসল হওয়ায় এবং এক খরচে ৩০/৪০ বছরের আয়ের উৎস হওয়ায় এখন জেলায় সুপারি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এক খরচে প্রায় ৩০ বছরের আয়ের উৎস হিসেবে সুপারির চাষের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে জেলার প্রান্তিক ও নতুন উদ্দ্যোক্তা চাষিদের। 


সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি সিটমহলের সুপারি চাষি মোঃ শাহিন আলী (৪২) জানান, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সুপারি দাম ভালো, ৫০ হাজার টাকার সুপারি এবার ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, আবার সুপারি গাছের সাথে পান চাষ করে বাড়তি আয় হচ্ছে । এক খরচে প্রায় ৩০ বছরের আয়। তাই নতুন করে আরও বড় পরিসরে সুপারির বাগান লাগিয়েছি’ 

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপপরিচালক, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান-বলেন, ‘ এই চাষে সেচ বা সার বীজ ব্যবহারে তেমন প্রয়োজন নেই, ঝুট ঝামেলা ছাড়াই অল্প শ্রমে কৃষকরা এ চাষে লাভবান হচ্ছেন, এবার ফলন হয়েছে বাম্পার দামও পেয়েছে দ্বিগুন’

একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন