ঢাকা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

হাতছাড়া হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের শেষ সুযোগ

ফালগুনী রশীদ
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১ ২১:০৯:৫২ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ২২:১৮:৫৫
হাতছাড়া হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের শেষ সুযোগ

এতো সংক্রমণ আর এতো মৃত্যুর ভিড়ে ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনকে প্রহসনের সাথে তুলনা করলেন বিশেষজ্ঞরা। লকডাউনের আরও পাঁচদিন বাকি থাকতেই গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্তে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো তাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সুফল আবারও হাত ছাড়া হবে বলেই মনে করছেন তারা। 

তারা বলছেন, লকডাউনের উদ্দেশ্য পূরণ হবার আগেই তা শিথিল করায় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য দুটোই বিপর্যস্থ হচ্ছে। চলতি বছর করোনার ভয়াবহতা সামাল দিতে শুরুতে আঞ্চলিক লকডাউন কিংবা চলাচলে বিধি নিষেধ শুরু করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়নি। 


বাধ্য হয়ে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সর্বাত্নক লকডাউন। কিন্তু খোলা থাকে সব ধরণের শিল্প কারখানা। কখনো আবার চলে গণপরিবহনও। এরপর আবার ঈদের জন্য ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলে মানুষের অবাধ চলাচল। এরপর দেয়া হয় কঠোরতম লকডাউন। বন্ধ করে দেয়া হয় শিল্প-কারখানাও।

কথা ছিলো সর্বোচ্চ কঠোর হবে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের লকডাউন। কিন্তু সেই লকডাইন সাতদিন পার হতে না হতেই পহেলা আগস্ট থেকে গার্মেন্টস ও কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত। 

বাধ্য হয়েই দুই পা’কে সম্বল করেই রাস্তায় নামতে হয় লাখো শ্রমিককে। তাদের সবার গন্তব্য রাজধানী ঢাকা। কিন্তু এই লকডাউন কি আদৌ প্রভাব ফেলবে করোনার সংক্রমনে?

এমন প্রশ্নের জবাবে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, এতে করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের শেষ সুযোগও হাতছাড়া হলো।

তারা বলছেন, শুরুতেই লকডাউন যদি কার্যকর করা যেতো তাহলে বার বার সময় বাড়ানোর দরকার হতো না। মূলত আধাআধি ব্যবস্থার কারণেই এখন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি দুটোই হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করেন পরামর্শক কমিটির আরেক সদস্য ডা. ইকবাল আর্সলান।

এমন সঙ্কটময় অবস্থায় কঠোরতম বিধিনিষেধের শিথিল করায়, এখন ভয়াবহ আগষ্টের অপেক্ষা। অন্তত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তেমনই সতর্কতা জানিয়ে রাখলেন।


একাত্তর/ এনএ


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন