ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সংগ্রহের প্রিয় বইয়ের যত্ন

নভেরা কাজী
প্রকাশ: ০২ আগষ্ট ২০২১ ১৫:০২:৫৬ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৫৮:৫২
সংগ্রহের প্রিয় বইয়ের যত্ন

বই পড়ার অভ্যাস যাদের আছে তারা ভালো করেই জানেন, বই পড়া আর বই কেনা সম্পূর্ণ আলাদা দুটো শখ। অনেকের কাছে বই কেনা আর সংগ্রহে রাখা প্রিয় শখ। এদের কেউ পছন্দ করেন দুর্লভ আর মূল্যবান বই সংগ্রহ করতে।

আবার এই সংগ্রহের যত্ন নেয়াও যে আরেক ঝামেলার ব্যপার সেটাও তারা জানেন। পুরনো, ধুলোমাখা বইয়ের আলাদা আকর্ষণ থাকলেও বইয়ের জন্য কিন্তু এই অবস্থা মোটেও ভালো নয়। একে তো এ থেকে ঘর নোংরা হয়, আবার যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্যও ধুলোবালি বিশেষ বিরক্তিকর।

বই এমন এক জিনিস, যা খুব বেশি যত্নআত্তির আবদার করে না। তবে, সারাজীবন সংগ্রহে থাকে যা, তার কিছু যত্ন তো নিতেই হয়। অনেকেই স্বপ্ন দেখেন তার ছেলেমেয়েও তার মতো বইপ্রেমি হবে, আর বইয়ের প্রতি ভালোলাগার সাথে বইগুলোও ছেলেমেয়েকে দিয়ে যাবেন। সেরকম চাইলে শখের বইগুলোর যত্ন নেয়ার পেছনে কিছুটা সময় আর শ্রম দেয়াই যায়। 


জেনে নিন বইয়ের যত্ন নেয়ার সহজ কিছু উপায়:

প্রথমত, সম্ভব হলে বইগুলোকে কাঁচের দরজা দেয়া তাকে রাখার চেষ্টা করবেন। এতে করে আজকাল বাতাসে যে পরিমাণ ধুলাবালি তা থেকে বই রক্ষা পাবে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সপ্তাহে অন্তত একবার পরিস্কার কাপড় দিয়ে বই এবং তাক দুটোই মুছবেন। তবে, এটি অনেকের জন্যই ঝক্কির কাজ বলে কাঁচওয়ালা তাকই ভালো ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

দ্বিতীয়ত, বইয়ের তাক জানালার কাছে রাখুন যেন সহজে আলো-বাতাস পেতে পারে। এতে বই স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থেকে রক্ষা পাবে এবং সহজে নষ্ট হবে না। এছাড়া পোকামাকড়ও আক্রমণ করতে পারবে না।


তবে, সরাসরি যেন রোদ না পড়ে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, সরাসরি সূর্যের আলো পড়লে বইয়ের পাতার রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং দাগ পড়তে পারে।

তৃতীয়ত, তাকে বইগুলো যেন সবসময় সোজাভাবে দাঁড় করানো থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যে কোনো বই অনেকদিন বাঁকাভাবে থাকলে তার ‘মেরুদণ্ড’ অর্থাৎ পেছনের শক্ত অংশটি স্থায়ীভাবে বেঁকে যেতে পারে। সেই সাথে বেঁকে যেতে পারে বইয়ের কভার। এতে বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোও ছুটে যাবার ভয় থাকে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটি মোটেও সুখকর অভিজ্ঞতা নয়।

চতুর্থত, বছরে একবার সব বই রোদে শুকাতে দিন। এটি করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো শীতকাল। কেননা, এই সময়ে রোদের তাপ কম থাকে আর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। সম্ভব হলে বাসার ছাদে, আর তা সম্ভব না হলে বারান্দায় এটি করা যায়।


একই সময়ে সব বই আর বই রাখার তাক ভালোমতো পরিস্কার করুন। বই পরিস্কার করার জন্য পরিস্কার নরম কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে কভার আর চারপাশ মুছে নিন।

সর্বশেষ, শুকানো হয়ে গেলে বইগুলো গুছিয়ে তাকে তুলে রাখুন। এসময় বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে একটা-দুটো ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন। বাড়তি সতর্ক হতে চাইলে বই রাখার আগে তাকে সামান্য পোকামাকড়ের স্প্রে যেমন অ্যারোসল ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে পোকার আক্রমণের যেকোন সম্ভাবনা থেকেই নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

অনেকের জন্যই বই তাদের অন্যতম প্রিয় সম্পদ। এ রকম অল্প কিছু পরামর্শ মেনে চললেই নিজের বইয়ের সংগ্রহ দীর্ঘদিন সুন্দর আর অক্ষত থাকবে।


ছবি: ইন্টারনেট 


একাত্তর/এসজে 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন