ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সম্পর্কের নতুন পরিভাষা 'স্যাপিওসেক্সুয়াল'

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগষ্ট ২০২১ ১৩:৪১:৪৯
সম্পর্কের নতুন পরিভাষা 'স্যাপিওসেক্সুয়াল'

ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্কের নতুন একটি পরিভাষা- ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’। বাংলায় বলা হয় ধীকামিতা। সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করলে বলা যায়, দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের মূলে যখন অপরের বুদ্ধিমত্তা প্রধান আকর্ষণ হিসাবে কাজ করে তাকেই ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’ বলে।

প্রেম-ভালোবাসা যে কোন সময় যে কারও প্রতি হতে পারে। কিন্তু শরীর বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের বাইরেও প্রেম আছে। কিছু মানুষ আছেন যারা চেহারা কিংবা শারীরিক সৌন্দর্য নয়, শুধু বুদ্ধিমত্তা দেখেই প্রেমে পড়েন। আর সেই প্রেমে পড়াকেই বলে ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।


স্যাপিওসেক্সুয়ালদের প্রেম ও যৌনতার অনুভূতি আবর্তিত হয় মস্তিষ্ককে ঘিরে। চেহারার কিছু ভূমিকা অবশ্য থাকে, কিন্তু তা নেহাতই সাময়িক। শারীরিক সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায় উল্টো দিকের মানুষটির বুদ্ধিমত্তা। 

স্যাপিওসেক্সুয়ালরা কিন্তু চট করে প্রেমে পড়েন না। যেহেতু শারীরিক সৌন্দর্য তাঁদের টানে না, তাই প্রেমে পড়তে তাঁদের সময় লাগে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে বন্ধুত্ব হয়।

স্যাপিওদের সহজে কাউকে পছন্দ হয় না, অনেকটা সময় লাগে। উল্টো দিকের মানুষটার সঙ্গে মেধা ও বৌদ্ধিকভাবে সংযোগ স্থাপনের পরই আসে তাঁকে ভালো লাগার প্রশ্ন।


অতিরিক্ত চিৎকার, মেজাজ দেখিয়ে যাঁরা নিজেদের প্রতিষি্ঠত করার চেষ্টা করেন, স্যাপিওরা তাদের পছন্দ করেন না। ঠিক একইভাবে বোকামিও পছন্দ করেন না।

অনুভূতির যুক্তি, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং জটিল পরিস্থিতিকে সহজ শান্ত ভাবে সমাধান যারা করতে পারেন স্যাপিওরা তাদেরকেই পছন্দ করেন বেশি।



এদের কাউকে পছন্দ মানে সত্যিই পছন্দ। মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক আলোচনা থেকে তারা উপাদান সংগ্রহ করেন, এবং মনে করেন যৌন আকর্ষণ শরীরে নয়, মেধায় লুকিয়ে থাকে।

বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেও পছন্দ করে না স্যাপিওরা। ছোট বৃত্তেই থাকতে পছন্দ করে। এ কারণে অবশ্য আশেপাশের লোকজন তাদেরকে অহংকারীও ভাবেন ভুল করে।

অনেকেরই এসব শুনে ‘আঁতলামি’ মনে হলেও এমন মানুষ সত্যিই আছেন! সম্পর্কের জটিল জগতে তাঁদের পরিচয় ‘স্যাপিওসেক্সুয়াল’।



যদি লক্ষণগুলো কারো সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে বিচলিত হবার কিছু নেই। স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে জীবন। সব মানুষের রয়েছে নিজস্ব ধ্যানধারণা, এটিও তার বাইরে কিছু নয়।

একাত্তর/ এনএ
 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন