ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ভবিষ্যত প্রজন্মের ভয়ংকর ক্ষতি করছে সরকার: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিনিধি, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ আগষ্ট ২০২১ ১৮:০২:২৪ আপডেট: ২৩ আগষ্ট ২০২১ ২১:০২:১৯
ভবিষ্যত প্রজন্মের ভয়ংকর ক্ষতি করছে সরকার: ফখরুল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যত প্রজন্মের ভয়ংকর ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৩ আগস্ট) দলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, হঠাৎ করেই কঠোর লকডাউন-টকডাউন সমস্ত উধাও হয়ে গেল। এখন যে যেমন খুশি চলো। হাজার হাজার মানুষ এক সঙ্গে চলছে, ফিরছে, সব কিছুই করছে। একটা জিনিসই চলছে না তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন শিক্ষা না পায় সেই ব্যবস্থা তারা করছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই করোনার একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেমন তারা টিকার জন্য পরিকল্পনা করেছেন, টিকা ভ্যাকসিনেশনের জন্য পরিকল্পনা করেছে, তেমন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জীবন-জীবিকার পরিকল্পনা করেছে এবং একই সঙ্গে কিভাবে শিক্ষা প্রদান করা যায় সেটার জন্য তারা পরিকল্পনা করেছে। আমাদের এখানে কোনো পরিকল্পনা নাই। এই যে একটা ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে প্রজন্মের, ক্ষতি করছে প্রজন্মের। 

অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, অনলাইনে কারা পড়ে? একমাত্র যারা বিত্তশালী মানুষ তারাই অনলাইনে পড়াশুনা করতে পারে, আর তো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। একটা কম্পিউটার যোগাড় করা, একটা মোবাইল সেট যোগাড় করা- সারা দেশে সেটা নাইও। গ্রামে স্কুল যেগুলো আছে সেগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ। পত্রিকায় দেখেছেন যে, ছেলেরা এখন বেলুন বিক্রি করছে, বাদাম বিক্রি করছে। স্কুল বন্ধ এখন তারা বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্য এগুলো করছে।  অর্থাৎ দে হেভ বিন অলরেডি ডাইভার্টেড।

ফখরুল বলেন, এই যে একটা ভয়ংকর ক্ষতি হচ্ছে প্রজন্মের সেই ক্ষতিটা সরকারকে মোকাবিলার করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা তারা সেভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা আছে শুধু বিভিন্ন রকম ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য দিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কোভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের জন্য ঔষধ সামগ্রি হস্তান্তর উপলক্ষে জিয়া পরিষদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টিকা প্রসঙ্গে বলেন, টিকা নিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড। এতো মিথ্যা কথা, এতো মিথ্যা অপপ্রচার যে মিথ্যা অপপ্রচার ও ভুল তথ্য দিয়ে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা বলছেন যে বয়সে মানুষের টিকা দেওয়া দরকার আমি ধরে নেই সেটা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত টিকা দেওয়া দরকার। তাহলে আপনার টিকার প্রয়োজনীয়তাটা হয় মোটামুটিভাবে ১৩ কোটি। ১৮ কোটির দেশে ১৩ কোটি টিকা দরকার হয়। তাহলে ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। আনে ২ লাখ, ৩ লাখ, ১ লাখ। তাও আবার দান, অনুদান আসে। সেখানে বলে যে, আমরা গণটিকা প্রদানের অভিযান করছি এবং প্রতিদিন এককোটি করে টিকা দেব। অনরেকর্ড বলেছে। অথচ টিকা নাই। এই যে মিথ্যা তথ্য-প্রচারণা। এদের লজ্জা-শরমও নেই। তারা ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্য কথা বলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমি একদিন বলেছি যে, এটা একটা ফ্রড গভমেন্ট।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারবর্হিভূত’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,  গোটা দেশের মানুষ যখন করোনার টিকা ও জীবন-মৃত্য নিয়ে লড়ছে সেই সময়ে তারা এটাকে ডাইভার্ট করে দিতে চান বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি মনে করি ওনার বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বিবর্জিত। একইভাবে ওরা শহীদ জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেই চলেছে। বন্ধ হচ্ছে না, চলছেই। 

১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকেরা জড়িত এখানে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, মিথ্যা কথা বলে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার ভয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তারা এসর মিথ্যাচার করছে। জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে, যতকিছু বলো না কেনো তাকে জনগনের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবে না।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন