ঢাকা ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮

যুবদল নেতার টর্চার সেলে দম্পতিকে নির্যাতন

তন্ময় ভৌমিক, নওগাঁ
প্রকাশ: ২৪ আগষ্ট ২০২১ ২২:১১:৪০ আপডেট: ২৪ আগষ্ট ২০২১ ২২:৩৯:১৩
যুবদল নেতার টর্চার সেলে দম্পতিকে নির্যাতন

নওগাঁর মহাদেবপুরে যুবদলের নেতা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নার্সারী ব্যবসায়ী মিঠুন চৌধুরীকে অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। 

আলাদা করে বানানো টর্চার সেলে তিন দিন আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে, কেটে ফেলা হয় তার মাথার চুল। 

চারজনকে আসামি করে মামলার পর দুই জনকে আটক করা হলেও পালিয়ে আছে, প্রধান আসামি রুহুল আমিন। 

রুহুল আমিন উপজেলা যুবদলের নেতা হলেও, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদকের আসরে জিম্মি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ১৫ আগস্ট সকালে নার্সারি ব্যবসায়ী মিঠুন চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায়, মহাদেবপুর যুবদল নেতা রুহুল আমিনের লোকজন। 

এমন অভিযোগ করে মিঠুনের স্ত্রীর শ্যামলী রাণী জানান, রুহুলের টর্চার সেলে মিঠুনকে আটকে রাখা হয়। মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ১০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: সাংসদ স্টিকার লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এক স্থানীয় নেতা!

শ্যামলী রাণী তার শাশুড়ির গলার সোনার মালা বন্ধক রেখে বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বরং আরও টাকা দাবি করা হয়। 

দু’দিন পর টর্চার সেলে স্বামীর কাছে যান স্ত্রী শ্যামলী রাণী। তখন নির্যাতন চলে তার উপরও, এমনটা জানান শ্যামলী। তিনি জানান, যুবদল নেতার লোকজন তা চুল কেটে দেয়।  

খবর পেয়ে, মারাত্মক আহত অবস্থায় শ্যামলী ও তার স্বামীকে রুহুলের টর্চার সেল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে, এই ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। 

পুলিশ, অভিযুক্ত যুবদল নেতা রুহুল আমিনের দুই স্ত্রী রুবাইয়া আকতার বৃষ্টি (২২) ও মুক্তা পারভীনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে। মূল আসামি রুহুল পলাতক।

এদিকে, উপজেলা পর্যায়ে টর্চার সেলের খবর শুনে রীতিমতো বিষ্মিত এলাকাবাসী। সবাই চেয়েছেন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার। 

আহত মিঠুন ও শ্যামলীকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন