ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, একাত্তর
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১৯:১৩
উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, জামালপুর গাইবান্ধাও সিরাজগঞ্জ বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। ওই সব এলাকায় কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছ। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত। সংকট দেখা দিয়েছে পশু খাদ্যের। 

জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর বইছে। সারা জেলায় পানিবন্দি হয়েছেন ছয় উপজেলার ২৮ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা।

পানিবন্দি হয়ে পরেছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার চার হাজার হেক্টর ফসলের মাঠ, কাঁচা পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বন্ধ হয়ে গেছে বন্যা দুর্গত এলাকার নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজ। এছাড়াও ভাঙ্গনের কবলে পরে ৬০ বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। ধরলার পানি কিছুটা কমলেও এখনো রয়েছে বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার উপরে। তিন শতাধিক চরের ৮০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি। ডুবে গেছে ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। 

গত ২৪ ঘণ্টায় উলিপুর উপজেলার অনন্তপুর বাজারের কাছে বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে গেছে পানি। এতে নতুন করে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপরে

অন্যদিকে, ধরলা ও তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজারহাট উপজেলার ২৫ পয়েন্টে নদী ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। গৃহহীন হয়েছে আরো শতাধিক পরিবার।

এদিকে, গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, ঘাঘট ও তিস্তাসহ সব নদীর পানি বাড়ছে। সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটাসহ চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভাঙন।  

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢলে গাইবান্ধার চারটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। 

ইউনিয়নগুলোর বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ও ছোট ছোট বাজারের দোকানপাট ডুবে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরে। 

মানিকগঞ্জে যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর পানিও বেড়ে প্লাবিত হয়েছে জেলার হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চল।  

বগুড়ায় ডুবে গেছে নদী পাড়র ঘরবাড়ী ও ফসলী জমি। সারিয়াকান্দির ৫২ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি।  

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে  পদ্মার বইছে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। এরই মধ্যে জেলার নদী তীর ও চরাঞ্চলের ১০টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।  


একাত্তর/এসজে 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন