ঢাকা ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

মানুষের অনুকরণে কথা বলতে পারে হাঁসও!

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বার ২০২১ ২২:২২:৩৩ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বার ২০২১ ০১:০১:৩৩
মানুষের অনুকরণে কথা বলতে পারে হাঁসও!

অনেক পাখি মানুষের অনুকরণে কথা বলতে পারে। শুধু টিয়া ও ময়নাসহ আরো বেশ কিছু পাখি মানুষের বলা কথা মনে রাখতে পারে, আবার উচ্চারণও করতে পারে। 

তাই বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, পাখি প্রজাতির হাঁসকে দিয়েও কথা বলানো যায় কিনা। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। নেমে পড়লেন কাজে। কিন্তু ফলাফল এমন অবিশ্বাস্য হবে ভাবতেও পারেননি। 

অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানী কথা বলানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন একটি কস্তুরি হাঁসকে। আর তার পারফর্মেন্স রীতিমতো তাদের সব ভাবনা চিন্তাকে অতিক্রম করে গেছে। 

দেখা গেলো অস্ট্রেলিয়ান কস্তুরি হাঁসটি মানুষের বলা শব্দ ও বাক্য মনে রাখতে পারে এবং পরে সেসব উচ্চারণ করতে, বলতেও পারে। এমনকি দরজা ধাক্কা দেয়ার শব্দ উচ্চারণ করতে পারে, আবার ‘তুমি একটা বোকার হদ্দো’ জাতীয় বাক্যও অবলীলায় বলতে পারে। 


আরও পড়ুন: ভারতে পর্নোকাণ্ডে অভিনেত্রীর আগাম জামিনে না

জীববিজ্ঞানী ক্যারেল টেন কেট জানান, তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো, যখন তিনি জানতে পারলেন একটি কস্তুরি হাঁস মানুষের বলা কথা অনুকরণ করতে পারে। 

প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি। তাই নিজেই গবেষণায় নেমে পড়লেন। কয়েক দিনের অনুসন্ধানেই তিনি পেয়ে যান একটি রেকর্ডিং। যেটি ছিলো গৃহপালিত একটি হাঁসের। 

হাঁসটির চার বছর বয়সের সময় রেকর্ডিংটি কেটে বেশ কয়েকবার বাজিয়ে দেখেন। এবং পরিস্কার শুনতে পান, হাঁসটি বারবার বলছে ‘তুমি একটা বোকার হদ্দ’।

তিনি প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে যান। কারণ, তার কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য ছিলো। হাঁস জাতীয় পাখির পক্ষে মানুষের শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করা প্রায় অসম্ভব। 

পরে এনিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেন ক্যারল কেট। গেত সোমবার ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটির একটি জার্নালে তার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

আরও পড়ুন: আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে দাদির সাথে নাতির বিয়ে

হাঁসটি ছিলো পুরুষ। এটি যখনই অন্যান্য হাঁসের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়, তখন লাথি মারার সঙ্গে সঙ্গে ওই শব্দগুলোও উচ্চারণ করতো। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিটার ফুলাগার, যিনি রেকর্ডিংটি করেছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে খাঁচার কাছে গিয়ে হাঁসকে ক্ষেপিয়ে তুলতেন। আর তখনই সে শব্দগুলো উচ্চারণ করতো।

হাঁসটি শুধু ওই বাক্যই নয়, দরজায় কড়া নাড়ার মতো শব্দও অনুকরণ করতে পারতো। ফুলগারের রেকর্ডিংয়ে সেই সবের নজিরও রয়েছে। 

সোনোগ্রাম বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাঁসটি শিশু বয়সে একটি দরজার কাছে তৈরি ছোট খাঁচায় বেড়ে উঠেছে। আর তার উচ্চারিত শব্দের সঙ্গে সেই দরজার শব্দ আশ্চর্যজনকভাবে মিলে গেছে।

টেন কেট বলেন, হাঁসটি সেসব শব্দই উচ্চারণ করেছে, যে শব্দগুলো সে ছোটবেলায় শুনেছিলো। আর এটিই ছিলো গবেষণার মূল অনুসন্ধান।


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন