ঢাকা ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বার ২০২১ ২৩:২৯:২৪ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বার ২০২১ ০০:৫০:০২
স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হালাল উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারন মানুষের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পাবনার স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনা পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার শিক্ষক মোছা: সীমা আক্তারকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা ওই শিক্ষকের বাড়ি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, পাবনা পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার শিক্ষক মোছা: সীমা আক্তার (৪০) আটুয়া হাউজ পাড়া মহল্লার মৃত হানিফুল ইসলামের স্ত্রী। সাধারন মানুষকে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক গরুর খামার ও আরও নানা ধরনের হালাল ব্যবসার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, শুধু সাধারন মানুষকেই নয়, তিনি বোকা বানানিয়েছেন নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক শিক্ষক ও পুলিশ সস্যদেরও। মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করে লাভের আশায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করে। লাভের অংক বেশি হওয়ায় লোভে পরে অনেকেই সেখানে অর্থ বিনিয়োগে করতে আগ্রহী হয়। প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ঠ করতে তাদেরকে লাভের অর্থ প্রদান করেন ওই শিক্ষিকা। কিন্তু পরবর্তীতে টাকার অংক বৃদ্ধি পেলে তিনি সমস্ত টাকা আত্মসাত করে গেলো এক মাস ধরে গাঢাকা দিয়েছেন।


মাসিক লাভের অর্থ নিতে এসে ওই নারী ব্যবসায়ীকে না পেয়ে তখন সকলেই বুঝতে পারে তারা চরম প্রতারনার শিকার হয়েছেন। তার কাছে টাকা দিয়ে অনেকেই এখন সর্বশান্ত। এ ঘটনার পরে স্কুল কতৃপক্ষ ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। ঘটনার পরে ভুক্তভোগীরা পাবনা সদর থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন। তিনি অনেকের কাছ থেকে চেক ও স্টাম্পের মাধ্যমেও অর্থ নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মোছা: সীমা আক্তার বলেন, আমার কোনো বৈধ ব্যবসা নাই। এক জনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আরেক জনকে দিয়েছি। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরকে সুদে অনেক টাকা লাভ দিয়েছি। আমি কারো টাকা আত্মসাত করিনি। মানুষ না জেনে বুঝে কেন আমাকে টাকা দিয়েছে। তাদেরকে প্রশ্ন করুন। সম্প্রতি যারা আমাকে টাকা দিয়েছে তাদের টাকার একটি হিসাব করেছি। সেখানে প্রায় তিন কোটি টাকার মত হবে। সেই সকল টাকা আমি দিয়ে দিবো। আর যারা সুদে লাভের টাকা নিয়েছে তাদেরটা দিবো না। আর আমাকে কেন স্কুল থেকে বহিস্কার করেছে সেটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানে। আমি ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে ছিলাম। জেলা পুলিশ আমাকে আসতে বলেছে বলে আমি এসেছি।

আরও পড়ুন: রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

অভিযোগের বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিগ্ধ আখতার বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে এই ধরনরে অভিযোগের কারণে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার প্রতারণার বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসছিলো ভুক্তভোগীরা। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। অনেকেই তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা তার বাড়িতে তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে থানাতে নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আলোকে মামলা দায়ের করা হবে।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন