ঢাকা ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৮

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনার প্রস্তুতি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:০২:৪৪ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:১৯:২৪
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনার প্রস্তুতি

বৈশ্বিক মহামারী করোনায় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গেল ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হয়। চলছে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতিও। কিন্তু সবকিছু ঠিক আগের মতোই না থাকার আশঙ্কা থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশনা এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্তে বেশ শক্তভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ২ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এক বৈঠকের সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসিকে চিঠি দিয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথসহ ক্যাম্পাসের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালু হওয়ার পর যেকোনো ধরনের ‘অরাজক পরিস্থিতি’ মোকাবেলায় প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চিঠি পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার পর ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বৈঠকে। এছাড়া ‘নৈরাজ্য’ ও ‘জঙ্গিবাদ প্রচার’ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এসবের মাঝে কোনভাবেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না।

বৈঠক প্রসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে ইউজিসির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমাদের নিজেদেরও নানা ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অপকর্ম টের পেয়ে আগেই ইভ্যালি ছাড়েন তিন তারকা

এর আগে, আফগানিস্তানের উগ্রবাদী হিসেবে বিবেচিত তালেবান গোষ্ঠীর ক্ষমতা কায়েমে এদেশের একটি মহলের উচ্ছ্বাসকে ইঙ্গিত করে এক সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।

তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি চলছে। ফলে অনেক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এবার যারা মাঠে নামবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ষড়যন্ত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছে, শেখ হাসিনার সরকার হটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন