ঢাকা ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮

সমুদ্র সীমা নিয়ে ভারতের দাবিতে বাংলাদেশের আপত্তি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৫৪:০৫ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৪৮:৫৩
সমুদ্র সীমা নিয়ে ভারতের দাবিতে বাংলাদেশের আপত্তি

বঙ্গোপসাগরে মহীসোপান নিয়ে ভারতের দাবির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের বরাবর পাঠানো একটি চিঠি জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত এপ্রিলে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিশনে (সিএলসিএস) ভারত দাবি করেছিল, বাংলাদেশ যে মহীসোপান নিজেদের বলে দাবি করছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ। এই দাবির কোন আইনগত ভিত্তি না থাকার ব্যাপারে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এ বিষয়ে কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার কথাও জানায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মহীসোপান নিয়ে বিতর্কের শুরু হয় ২০০৯ সালে। তখন ভারত তাদের সমুদ্র সীমা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তিরেখা বা বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার মধ্যে দুটি বেইজ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি ছিল। ২০০৯ সালে তাদের সমুদ্র সীমা নির্ধারণের সময় একটি বেইজ পয়েন্ট ছিল বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে, আরেকটি বেইজ পয়েন্ট ছিল সাড়ে দশ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসানো নিয়ে জটিলতা

নিয়ম অনুযায়ী সমুদ্রের পানির নিম্নস্তর থেকে বেইজ লাইন নির্ধারণ করার কথা থাকলেও দুটি বেইজ পয়েন্ট সেই নিয়ম মেনে অনুমান করা হয়নি বলে মনে করে বাংলাদেশ। সে সময় ভারতের এই বেইজ লাইন নির্ধারণে ভুলের বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি সংশোধনের অনুরোধও করে বাংলাদেশ। এরপর ২০১১ সালে বাংলাদেশ নিজেদের সমুদ্র সীমা নির্ধারণ করে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণবিষয়ক কমিশনে (সিএলসিএস) আবেদন করে।

এরপর ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ বিষয়ে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতের মামলায় বাংলাদেশ জয়লাভ করে এবং আদালত বাংলাদেশকে নিজেদের সংশোধিত সমুদ্র সীমা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

তবে, আদালত সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও ভারত চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের দাবি করা মহীসোপান নিয়ে আপত্তি জানায় সিএলসিএসে। ওই আপত্তিতে ভারত দাবি করে, বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠে যে বেইজ লাইন ধরে নিজেদের মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ। তারই প্রেক্ষিতে এবার জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানালো বাংলাদেশ। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন