ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বিএনপির মূল দলসহ সব সংগঠনই মেয়াদোত্তীর্ণ

শফিক আহমেদ, একাত্তর
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:১৪:১০ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:২১:২২
বিএনপির মূল দলসহ সব সংগঠনই মেয়াদোত্তীর্ণ

গেলো এক দশকের বেশি সময় ধরে কখনও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, কখনও সরকার পতনের লক্ষ্য আন্দোলনে নামার হুশিয়ারী দিলেও বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি। 

এজন্য একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা বিএনপির দুর্বল সাংগঠনিক ভিত্তিকেই দায়ি করছেন বিশ্লেষকরা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো, দলটির সবগুলো কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। 

এই অবস্থায নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে নামার আগে দল ও অঙ্গসংগঠনকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করা প্রস্তাব এসেছে সম্প্রতি বিএনপির মতবিনিময় সভায়। 

চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের বৈঠকের মূল আলোচনা ছিলো সংগঠন শক্তিশালী করে আন্দোলনের নামবে বিএনপি। 

সে জন্য ঢাকা মহানগর, ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিট এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ এসেছে বৈঠক থেকে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মূল দল এবং অঙ্গ সংগঠনের সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। 

২০১৭ সালে দুই বছর মেয়াদি আংশিক কমিটি হয়েছিলো ঢাকা মহানগর উত্তর–দক্ষিন বিএনপির, যার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালে।


গেলো ২ আগস্ট ঢাকা মহানগরীতে নতুন আহবায়ক কমিটি করে মহানগরীর সব কমিটি বিলুপ্ত করেছে দল। সারাদেশে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। গেল প্রায় তিন  বছর ধরে সবগুলো সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

এর মধ্যে কেবল নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠন হয়েছে। বাকি ৮০ জেলায় নেই কোনো বৈধ কমিটি। 

আবার গেলো ত্রিশ বছরেও পুনাঙ্গ কমিটি হয়নি বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের। আরেক অঙ্গ সংগঠন সেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো তিন বছর আগে। 

অতীতে আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকা জাতীয়তাবাদী যুব দলের আংশিক কমিটি হয়েছে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মেয়াদ শেষ হলেও গঠিত হয়নি আহবায়ক কমিটি।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২০১৩ সালে গঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। 

আন্দোলনে মিছিলের সামনে থাকা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কমিটি পুনাঙ্গ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস ২০১৭ সালে গঠিত হয়েছিলো। এটিও সাংগঠনিক কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রভাবশালী সাত অঙ্গ সংগঠনের এই নাজুক অবস্থার মধ্যে কিছুটা ভালো অবস্থানে জাতীয়তাবাদী তাতী দল ও মৎস্যজীবী দল। এরইমধ্যে অধিকাংশ সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি শেষ করেছে ।

অঙ্গ সংগঠনের বাইরে বিএনপির যে দুটি সহযোগি সংগঠন আন্দোলনে বড় ভুমিকা রাখে সেই ছাত্রদলের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ১৮ সেপ্টম্বর। হয়নি নতুন কমিটি বা কোনো আহবায়ক কমিটি।  

কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০১৪ সালে আংশিক কমিটি গঠন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। ২০১৬ সালে মেয়াদ শেষ হলেও হয়নি অহবায়ক কমিটি বা নতুন কমিটি।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে শেখ হাসিনাকে 'মুকুট মণি' সম্বোধন

এই অবস্থায় আন্দোলন কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্ন বিএনপ মহাসচিব কাছে। জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবগুলো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পূনর্গাঠনের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে সাংগঠনিক কমিটিগুলো ঠিক করা হবে। 

তবে, এতো বিশাল সাংগঠিনক কাজ শেষ করে কবে নাগাদ বিএনপি আন্দোলনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন