ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম রোদেলাকে করোনা কেড়ে নিলো সবার আগে!

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১৪:১৯ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:১০:৫৭
অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম রোদেলাকে করোনা কেড়ে নিলো সবার আগে!

দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় সবাই যখন আনন্দে আত্মহারা, তখনই করোনার উপসর্গ নিয়ে বন্ধু-সহপাঠি-শিক্ষক আর পরিবারের সদস্যদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলো রোদেলা। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া রোদেলা রোল ছিলো এক, সে যেন চলেও গেলো সবার আগে। 

মানিকগঞ্জে এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুবর্ণা ইসলাম রোদেলা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে। 

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত ক্লাসে এক রোল রোদেলার। মেধাবী এই শিক্ষার্থী গান, বির্তক, উপস্থিত বক্তৃতাসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বহু পুরস্কার পেয়েছে। সে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেউথা এলাকার বশির উদ্দিন মোল্লা ও শামসুন্নাহার জোস্না দম্পতির মেয়ে। বশির উদ্দিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। 


পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে রোদেলা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলো। প্রাথমিকভাবে সে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে থাকে। পরে শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে দ্রুত মুন্নু জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

এদিকে, শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রোদেলাকে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ মুন্নু জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার ফুসফুসের ২৮ শতাংশ আক্রান্ত ছিলো, যেটাকে আমরা করোনা বলতে পারি। অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে দ্রুত রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। 


মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেয়েটি সর্বশেষ স্কুলে গিয়েছিল। তখন তার শরীরে কোনো সমস্যা ছিল না। তিন দিন ধরে তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এর আগে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী করোনা পজিটিভ হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

পরবর্তীতে তার ৫৮ জন সহপাঠীকে করোনা পরীক্ষা করোনো হয়েছিল। তবে কারও শরীরে করোনা শনাক্ত না হওয়ায় এবং আক্রান্ত শিক্ষার্থী সুস্থ হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, রোদেলার বাবা বশির উদ্দিন মোল্লাও গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন বলে জানা গেছে। রোদেলার মৃত্যুতে এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এবিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে না চাইলেও জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক তারা পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করবেন। 



একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন