ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

নারীদের কণ্ঠ নকল, ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাকে প্রবাসীদের টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:১৮:৩১ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:০৯:২২
নারীদের কণ্ঠ নকল, ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাকে প্রবাসীদের টাকা লুট

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে কখনও নারীদের কণ্ঠ নকল, আবার  কখনও অ্যাকাউন্ট হ্যাকসহ নানা কৌশলে নাটোরে প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। এদিকে হ্যাকিং করে কোটিপতি বনে যাওয়া চক্রের সদস্যরা পুলিশের হাতে পড়লেই উল্টো অভিযোগ আনছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নানা অভিযোগে পুলিশকেই হয়রানি করছে অপরাধীদের চক্রটি। 

গতকাল বুধবার ‍দিবাগত রাতে পুলিশের হাতে ১২ জন গ্রেপ্তার হওয়ার পর উঠে আসে এমন তথ্য।

পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে নাটোরের লালপুর ও বাগতিপাড়া থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলো, নাটোরের লালপুরের গন্ডবিল এলাকার কিয়ামত আলীর ছেলে জামিরুল ইসলাম জনি (২০), অমৃতপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদ তারেকের ছেলে আতিক হাসান (২৩), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে শিপন আলী (২৮), ইয়ার উদ্দিনের ছেলে সুমন আলী (১৯), মহারাজপুরের আমানুল প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম মমিন (১৯), মোহরকয়া’র জমির উদ্দিনের ছেলে লালন (২৫), ইয়ারুল আলীর ছেলে পাপ্পু আলী (১৯), বিলমাড়িয়া এলাকার আতাহার মণ্ডলের ছেলে আলম হোসেন (৩৮), নাটোরের বাগতিপাড়া থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মো. সানি আহমেদ (২০), লালন মোল্লার ছেলে সুরুজ আলী (২০), গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. হারুন অর রশীদ (১৯) এবং শাজাহান আলীর ছেলে মো. শিপন আলী (১৬)

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রটি নারীদের কণ্ঠ নকল করে প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতারণার সঙ্গে আরও শত শত ছেলেরা যুক্ত আছে। আর ইমো হ্যাকিং করে টাকা উপার্জন করা তাদের কাছে এখন শিল্পের মতো। 

পুলিশ জানায়, লালপুরের বিলমাড়িয়া, মহারাজপুর, গন্ডবিল, মোহরকয়া, দুরদুড়িয়া, কৃষ্ণপুর, নাগশোষা, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সুলতানপুর, নাগপুরসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতেই আছে একজন দুইজন হ্যাকার।

গ্রেপ্তারদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, কয়েক বছর আগেও যারা দিন মজুর ছিল, এখন তারা কোটি টাকার মালিক। তাদের এখন বিলাসবহুল বাড়ি, দামি মোটরসাইকেল, পাকা দালান বাড়ির মালিক হয়েছেন। 

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ধরে নিয়ে গেলেও নিমিষেই তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। ফিরে এসে আবার শুরু করেছেন প্রতারণা। চক্রটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন: নারাণের জালে ধরা পড়া কাতলটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজারে

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, এতোদিন অভিযোগ না পাওয়ার হ্যাকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বেগ পেতে হয়েছে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ ইমো হ্যাকারদের খুঁজতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। 

এসপি আরও বলেন, নাটোরের লালপুরের হ্যাকাররা মূলত প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযোগ এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে হ্যাকারদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতরা যেখানেই থাকুক, খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন