ঢাকা ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৩৭:১১
‘স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না’

বঙ্গবন্ধুর খুনি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা: সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তার কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়ায় আর পাকিস্তানীদের দোসর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তাদের কবর জাতীয় সংসদসহ গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় থাকতে পারে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন এসব কুলাঙ্গারদের কবর জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ-স্থান থেকে অপসারণ করতে পারবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবদ্দশায় দেশ ও মানুষের জন্য কি করে গেছেন। আর পাকিস্তান দীর্ঘ ২৫ বছর এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পরবর্তী ২১ বছর জিয়াসহ শাসকরা দেশে কি করেছে সেটা সবারই জানা আছে। তারা দেশকে ধ্বংস করা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান জাতির পিতার খুনি একথা ধ্রুব সত্য। তাকে খুনি প্রমাণ করার জন্য সকল ধরনের দলিলাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা ছিলো জিয়াউর রহমানের। কিন্তু তিনি তা না করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করে।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবান্তর উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অধিকার বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই দিয়েছে। আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না, সুযোগও নেই। মুখে ঘোষণা করলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা স্বীকৃতি দিচ্ছে। বিভিন্ন সম্মাননায় তাঁকে ভূষিত করছে যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করে।

রাজধানী ঢাকাসহ সকল নগর-মহানগর এমনকি গ্রামকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকাকে আধুনিক-দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তরিত করতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও শিশু পরিবারের ১৪ শিশু করোনায় আক্রান্ত

মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের দুই পাড়ে বাঁধ দিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা খালগুলো শিগগির সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর সবুর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন