ঢাকা ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৮

ভরা মৌসুমেও সুন্দরবন এলাকায় নেই ইলিশ, আছে চাঁদাবাজি

নিজস্ব সংবাদদাতা, মোংলা
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:২১:৪৭ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:১০:৩৪
ভরা মৌসুমেও সুন্দরবন এলাকায় নেই ইলিশ, আছে চাঁদাবাজি

ভরা মৌসুমেও সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর ও নদ-নদীতে মিলছে না ইলিশের দেখা। ছোট সাইজের দুই একটি ইলিশ উঠলেও তাতে উঠছে না নৌকা-ট্রলারের খরচ। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে পশুর নদীতে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরেছেন জেলেরা। 

জেলেদের অনেকেই পাচ্ছেন না সরকারি সহায়তার চালও। সুন্দরবনের পশুর নদীতে ইলিশ ধরে জীবিকা চলে মোংলার উপকূলের প্রায় তিনশ' জেলে পরিবারের। যাদের পরিবারের লোক সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। যেখানে ইলিশের প্রাচুর্যে তাদের রমরমা অর্থনৈতিক অবস্থা থাকার কথা সেখানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে পুলিশের চাঁদাবাজি। 

ইলিশের নৌকা প্রতি চারশ' থেকে পাঁচশ' টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে পুলিশ। এমনিতেই ইলিশ নেই, তারপরও পুলিশের এই চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। মাছ না পেলেও পুলিশকে দিতে হচ্ছে টাকা। এ নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্থ জেলেরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁদা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতি মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, শুনছি পুলিশ টাকা নিচ্ছে, তবে আমি জেলেদেরকে টাকা দিতে নিষেধ করেছি। পুলিশ লোক দিয়ে টাকা আদায় করে নিচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, এদেশের গভীর সাগর থেকে ভারতীয় জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় এখানকার জেলেরা মাছ পাচ্ছেনা।

চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি সুজন চন্দ্র পাল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তারপরও যদি কোনো পুলিশ সদস্য টাকা আদায় করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রচলতি আইনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেয়ার দিন আজ

এদিকে পশুর নদীতে মাছ না পাওয়ার বিষয়ে  উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, পশুর নদীর নাব্যতা ও স্রোত কমে যাওয়ায় গভীর পানির ইলিশ এ দিকে আসতে পারছেনা। তাছাড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ফলে বিষের ক্রিয়ায়ও মাছ না আশার অন্যতম কারণ। 

তবে জেলেদের চাল না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেদের কার্ড না থাকায় কেউ কেউ বাদ পড়তে পারে, আমরা নতুন তালিকায় তাদের অন্তর্ভূক্ত করে সহায়তার আওতায় নিয়ে আসবো।  

মোংলা শহরের প্রধান বাজারে যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তা চট্টগ্রাম ও বরিশাল এলাকার। পশুর নদীতে মাছ না পাওয়ায় বিক্রেতারা চড়া দামে বিক্রি করছেন অন্য এলাকার মাছ। তা নিয়ে ক্রেতাদের মাঝেও অসন্তোষ রয়েছে। 


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন