সেকশন

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
 

আশ্বিনের বন্যায় অতীতের সব রেকর্ড ভাঙলো তিস্তার পানি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৬ এএম

আশ্বিনের বন্যায় রুদ্র মূর্তি ধারণ করেছে উত্তরের বহমান তিস্তা নদী। বুধবার (২০ অক্টোবর) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.৬০ মিটার) সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানি।

এদিকে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ফ্লাড বাইপাসসহ অন্তত নয়টি বাঁধ। এসব বাঁধ ভেঙে নদীর পানি প্রবেশ করায় জেলার দুই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কেউ কেউ গবাদি পশু ও মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও অনেকের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে নদী গর্ভে।

ঘরবাড়িসহ সব হারিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে ৬ হাজার পরিবারের অন্তত ২৪ হাজার মানুষ। দুর্গত এসব মানুষের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা, ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ভারতের বন্যার প্রভাবে মঙলবার রাত থেকেই বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। তবে উত্তর জনপদে বহমান এই নদী রুদ্র মূর্তি ধারণ করে সকাল নাগাদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তিস্তার পানি। বাড়তে বাড়তে বিকেল তিনটায় বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে।

পানির তোড়ে ভাঙন দেখা দেয় ব্যারেজ সংলগ্ন ফ্লাড বাইপাসে। এরপর একে একে ভাঙন দেখা দেয় নয়টি বাঁধে। ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চর গ্রামগুলোতে হুহু করে ঢুকে পড়ে ঢলের পানি। বাড়িঘরে আকস্মিক পানি ঢুকে পরায় পানি বন্দী পয়ে পড়ে এসব চর গ্রামের অন্তত ২৪ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ রোপা আমনসহ রবী ফসল ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। কেউ কেউ গবাদি পশু ও মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও অনেকের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছে নদী গর্ভে। সময় মতো খোঁজ খবর না রাখায় এমন ক্ষতির স্বীকার হতে হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

উত্তরাঞ্চল পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর বিভাগের প্রধান প্রকৌশলি জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে অল্প অল্প করে কমতে থাকে তিস্তার পানি। তবে তার আগেই ছোট-বড় নয়টি বাঁধের ৯৩০ মিটার বাঁধ বিলীন হয়েছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙনের ফলে অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন ঠেকাতে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বন্যা কবলিত এসব মানুষকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। দুর্গত এসব মানুষের জন্য ইতিমধ্যে নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিতরণ করা হয়েছে অসংখ্য প্যাকেট শুকনো খাবারও। সরকারসহ সবার সার্বিক সহায়তায় সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা সবার।

আরও পড়ুন: তিস্তার পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে

উল্লেখ্য, তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের পর ১৯৯৬ সালে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার, ২০০৭ সালের ৫৫ সেন্টিমিটার, ২০১৭ সালে ৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হলে তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন ফ্লাড বাইপাস ধ্বসে যায়। এরপর ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওঠায় ধ্বসে যায় ফ্লাড বাইপাসটি।

তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির ধারণ ক্ষমতা সাড়ে চার লাখ কিউসেক। আর ফ্লাড বাইপাসে পানির ধারণ ক্ষমতা ২ লাখ কিউসেক। ব্যারাজ এবং ফ্লাড বাইপাস ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পানি হলে ফ্লাড পাইপাসটি আপনা-আপনি ভেঙে যায় অথবা ভেঙে দিতে হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে।


একাত্তর/আরএ

মাত্র আট কিলোমিটার নদী খননে এবার বন্যা থেকে রক্ষা পেলো সিলেট শহর। পুরো সুরমা নদী খনন হলে সিলেট শহর পুরোপুরি বন্যা মুক্ত হবে বলে আশার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আশ্বাস দিলেন,...
উজানে ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা নদীর পানি। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পালপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন্যায় জামালপুরে রোপা-আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বন্যার পানি নেমে যাবার পর ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা আবারো চাষের জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই অবস্থায় উচ্চমূল্যে ধানের চারা...
চলমান তাপপ্রবাহে মানুষের ভোগান্তি যখন চরমে তখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা পানির সংকট। মিরপুর, শেওড়াপাড়া, জুরাইন ও নন্দীপাড়াসহ রাজধানীর অন্তত ১০টি এলাকায় ঠিকমতো পানি পাচ্ছেন না বাসিন্দারা।
রাজধানীতে আরেক দফা বাড়লো তাপদাহ। বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সহসা এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে না। 
ভারতে একটু ঝড়ো বাতাসেই ধসে পড়েছে আট বছর ধরে নির্মাণাধীন থাকা একটি সেতু। ধসে পড়া সেতুর কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন অর্ধ-শতাধিক মানুষ।
বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে। এসব দেশে ২০২৩ সালে মানুষ হতাহত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বেশির ভাগই হয়েছে বন্যা ও ঝড়ের কারণে।
লোডিং...
Nagad Ads
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর


© ২০২৪ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত