সেকশন

রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
 

ফাঁসানো হচ্ছে, দাবি সেই ঢাবি শিক্ষকের

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৯ পিএম

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে নিয়ে তুমুল হৈচৈ চলছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন ও পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাদির। তার দাবি, তাকে ফাঁসাতে ছড়ানো হয়েছে এমন জাল।

একাত্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘটনার আদ্যপান্ত বলছেন অধ্যাপক নাদির। তবে কিছু কথা তুলে রেখেছে তদন্ত কমিটির কাছে বলার জন্য।

অধ্যাপক নাদির বলেন, ‘ভুল সংবাদ’ প্রচার করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর পেছনের কারণগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদীত।

তিনি বলেন, ছয় ফেব্রুয়ারি ডিপার্টমেন্টের এমএসজে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ওই দিনই সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসতে থাকে, আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাদের ফলাফলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধস নামিয়ে দিয়েছি। আমার ছবিসহ এই রিপোর্ট ছাপা হতে থাকে। 

অধ্যাপক নাদির এই অভিযোগের বিরুদ্ধে জানান, ওই সেমিস্টারে আমি এককভাবে কোনো কোর্স নেইনি। এককভাবে নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগও ছিলো না এবং আমি ভাইভা নিয়েছি, কনসেন্সিভ ভাইভা।

পরীক্ষার মধ্যে কন্সেন্সিভ ভাইভা অংশে আমার সঙ্গে আরও তিন জন মেম্বার ছিলেন। মূল ভাইভা মোট চার জন শিক্ষক নিয়েছেন এবং নম্বর আলাদাভাবে দিয়েছেন। পরে সেই আলাদাভাবে দেওয়া নম্বরগুলো গড় হয়েছে এবং গড় নম্বর হিসাব করা হয়েছে।

একইভাবে লিখিত পরীক্ষায় খাতা দেখার পর দ্বিতীয় পর্যবেক্ষক খাতা দেখেছেন এবং কয়েকটা খাতা আবার তৃতীয় পর্যবেক্ষকের কাছে গেছে। এই সব নম্বর গড় করে চূড়ান্ত নম্বর হয়েছে। 

নাদিরের প্রশ্ন, আমি এককভাবে নম্বর কম দিয়েছি, এমন অভিযোগ আসছে কেন? গত ২৪ বছরে এমন অভিযোগ না এলেও হঠাৎ এবার কেন? 

ঢাবির সূত্র বলছে, খুব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান পদটির পরিবর্তন আসতে পারে। যে পদটির দাবিদারদের মধ্যে অধ্যাপক নাদির অন্যতম।

অধ্যাপক নাদির বলেন, ফেসবুকে ছবিসহ একের পর এক তার নামে রিপোর্ট আসে ফেব্রুয়ারির সাত ও আট তারিখে। তখন কিছু পরিচিত সাংবাদিক জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য বিভিন্ন নারী শিক্ষার্থীদের ‘জোরাজুরি’ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এমন তথ্যে আমি ভীত, সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলি। তখন পুলিশ আমাকে জিডি করার পরামর্শ দিলে ৯ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় জিডি করি। আকষ্মিকভাবে এর পরের দিন অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অভিযোগটি এসেই গেলো।

এদিকে অভিযোগ আসা মাত্রই ‘ছবিসহ’ দ্রুত প্রতিবেদন হওয়াকে তিনি সন্দেহজনক উল্লেখ করে বলেন, এই সব কিছু ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত। তদন্ত চলাকালে সংবাদে আমার ছবি দেওয়া ‘গ্রহণযোগ্য’ ও সঠিক ‘সাংবাদিকতা’ না।
 
ঘটনার শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০ সাল থেকে আছেন অধ্যাপক জুনাঈদ এবং সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত অনেক সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তিনি পড়িয়েছেন। জন্মদিন পালন করতে ২৩ বছর ধরে তারা বাসায়ও আসছে। কিন্তু এই বছর ব্যস্ততার কারণে তেমন কিছু তিনি করতে পারেনি।

অধ্যাপক নাদির বলেন, মনে আছে, বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মেয়ে ফুল নিয়ে এসেছিলো। সে আমার বাসা ঘুরে দেখলো এবং আমাদের ছাদে গিয়েছিলো। এখন যদি আমি ছাদে তাকে হয়রানি করি তাহলে কেউ দেখলো না কীভাবে, সিসিটিভিতে ধরা পড়লো না কেন। আর যদি আমি তাকে কোনোভাবে হয়রানি করে থাকি তাহলে কেন সে সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলেন না। এমনকি মেয়েটি আমাদের সঙ্গে লাঞ্চও করেছেন। তারপর বিকেলে বিদায় নেওয়ার আগে মাকে বলে গেছেন ক্রিসমাসের দিন আবার আসবেন। 
 
তিনি আরও বলেন, এটা আমার অপশনাল কোর্স, কিন্তু তাও বহু শিক্ষার্থী এটা নেয়। অনেকেই আমার কাছ থেকে ভালো নম্বর পায়নি। আবার কেউ কেউ আছে যাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই, কিন্তু তারা ভালো নম্বর পেয়েছে। 
 
নিজের জবাবদিহিতাতে তিনি আরও যোগ করেন, আমি যদি মানুষের সঙ্গে জবরদস্তি করি তাহলে কেউ আমার জন্মদিনে আমাকে ফুল দেয়? আমার দ্বারা যদি কেউ হ্যারাসড হয় তাহলে রাতে এমনি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারে? প্রবলেম মানুষের থাকে, তখন তাদের বাড়তি সাপোর্ট দিতে হয় আমাদের। অনেকের লাগে না। অনেকের পারিবারিক কারণে লাগে, অর্থনৈতিক কারণে লাগে, ইন্টেলেক্টুয়াল কারণে লাগে, ব্যক্তিগত সার্পোটে লাগে।

প্রেম-ভালোবাসার কোনো কিছু ছিল কি না প্রশ্নে অধ্যাপক নাদির বলেন, এই কথা হচ্ছে প্রমাণ সাপেক্ষ, যা তদন্ত কমিটির কাছে বলবো। আরও অনেক কথা আছে যা আমি তদন্ত কমিটিকে বলবো। 

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্ত দাবি করে অধ্যাপক জুনাইদ বলেন, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। অভিযোগ নানা উদ্দেশে মানুষ করতে পারে। তদন্ত হবে, যাচাই-বাছাই হবে, তারপর যার দোষ সে শাস্তি পাবে। আর যার দোষ নেই তিনি শাস্তি পাবেন না।   

শিক্ষার্থীদের জন্য যা বলেন অধ্যাপক নাদির

তিনটি ফুল কোর্স নিচ্ছেন এই সেমিস্টারে অধ্যাপক জুনাইদ। যার জন্য তাকে সপ্তাহে ছয়টি ক্লাস নিতে হয়। কোনো সিনিয়র শিক্ষক ছয়টি ক্লাস নেন না বলে দাবি করেন অধ্যাপক জুনাইদ। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের কাজ, পাবলিকেশনের কাজ রয়েছে তার।
  
অধ্যাপক জুনাঈদ জানান, আমি জানতে পেরেছি যে আমর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের কারণে দুই হাজার শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেছে। আমি চাই, আমার জন্য কোনো শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বিঘ্নিত না হোক। তাই এই প্রতিশ্রুতিতে আমি ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকছি।
 
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি ব্যাচের ২৮ শিক্ষার্থী।

এরপর শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তার বিরুদ্ধে ‘যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ তুলেছেন প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করেন বিভাগটির এক নারী শিক্ষার্থী। 

 

একাত্তর/আরআর/এসি
বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে নানা পেশায় সফল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েক লাখ সাবেক শিক্ষার্থী। তারা দেশের প্রাচীনতম এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জানিয়ে ঢাবি...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি...
দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
একটি আবাসিক কোয়ার্টার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আদ্রিতা বিনতে মোশারফ (২১) নামের ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকেই আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনের অন্যতম রুট লোহিত সাগরে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম- হুতি। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের এই সশন্ত্র বাহিনীর দাপটে রীতিমতো...
দেশের ঋণখেলাপিদের নামের তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ।
রাসেল ভাইপার। দেশজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম। ছাগলকাণ্ড থেকে শুরু করে বেনজীরনামায় দেশ বুঁদ হয়ে থাকলেও বিষধর এই সাপটির উপস্থিতি দেশজুড়ে বাড়তে থাকায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে...
মানিকগঞ্জে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যায় সরাসরি যুক্ত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের আগের রাতে বাসে...
লোডিং...
Nagad Ads
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর


© ২০২৪ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত