সেকশন

মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
 

এবার ‘বেকারত্বে’ চোখ বিজেপি-কংগ্রেসের

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ পিএম

ভারতের বড় দুই রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দল দু'টি এরইমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে ফেলেছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এবারের ইশতেহারে দুই দলই ‘বেকারত্বকে’ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। 

বিজেপি–কংগ্রেসের ইশতেহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এসব সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বিজেপি তার ইশতেহারে বলেছে, অবকাঠামো, বিমান চলাচল, রেলপথ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর মনোযোগ দিয়েছে মোদি সরকার। ভারতের যুবকেরা কল্পনাও করেনি যে তাদের সামনে এত সুযোগ আসবে।

অন্যদিকে কংগ্রেস বলেছে, ক্ষমতায় গেলে ৩০ লাখ সরকারি শূন্যপদে চাকরির ব্যবস্থা করবে কংগ্রেস।

কেন দুই দলই বেকারত্বকে গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহার সাজালো তার সুলুক সন্ধান করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিজেপি, যে দলের নেতাকর্মীরা ‘হিন্দুত্ববাদ’কে সব সময়ই নির্বাচনী বৈতরণি পার হাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার মনে করে, তারাও যখন ধর্মীয় রাজনীতির বদলে বেকারত্বকে তোয়াজ করে ইশতেহার প্রকাশ করে, তখন তা বিস্ময়কর ঘটনাই বটে।

রূপকথার দৈত্যের প্রাণভোমরা যেমন সাত সমুদ্রের নিচে কোনো এক রূপার কৌটার মধ্যে আবদ্ধ ছিলো, তেমনি বিজেপি–কংগ্রেসের ইশতেহারে বেকারত্ব স্থান পাওয়ার প্রাণভোমরা ছিলো দেশটির লোকনীতি জরিপের ভেতরে।

লোকনীতি ডট ওআরজি থেকে জানা যায়, লোকনীতি জরিপের কেতাবি নাম ‘সেন্টার ফর স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিস’—সংক্ষেপে ‘সিএসডিএস’। এই জরিপেই উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য।

জরিপ বলছে, ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করছেন আগের চেয়ে বর্তমানে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মনে করেন বেকারত্ব আগের তুলনায় ভয়ানকভাবে বেড়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক এই গবেষণা সংস্থাটি সমাজের নানা শ্রেণি–পেশা ও ধর্ম–বর্ণের মানুষের কাছেই মতামত চেয়েছে এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতেই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। সিএসডিএস জানিয়েছে, তাদের জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ৬৭ শতাংশ মুসলিম, ৫৭ শতাংশ দলিত হিন্দু এবং ৫৯ শতাংশ জনজাতির মানুষ মনে করে, বর্তমানে চাকরি পাওয়া কঠিন। এমনকি উচ্চবিত্ত শ্রেণির ৫৭ শতাংশ মানুষও বলেছে, আজকের দিনে চাকরি পাওয়া আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বলছে, শুধু জরিপই নয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও–এর বার্ষিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে এবং মোট বেকারের ৮৩ শতাংশেরই বয়স ত্রিশের কোটা পেরোয়নি।

বলে রাখা ভালো, ভারতে এখন মোট জনসংখ্যা ১৪০ কোটির ওপরে। এর ৬৫ শতাংশের বয়সই ৩৫ বছরের নিচে। এই বিপুল সংখ্যক তরুণ–যুবাদের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়েই ২০১৯ সালে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু পাঁচ বছর পর তরুণ–যুবাদের সেই স্বপ্ন যেন অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

এসব তথ্য নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির কপালে ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। কারণ ২০১৯ সালের লোকনীতি জরিপের ফলাফল বলছে, তখন মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার সময় বেকারত্বকে বিবেচনায় নিতেন। আর এখন সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে।

নির্বাচনের আগে এসব প্রাক–নির্বাচনী জরিপ ভোটের মাঠে বেশ প্রভাব রাখে। এবারের জরিপ বলছে, শহরের মানুষের তুলনায় গ্রামের মানুষ বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে বেশি আমলে নিচ্ছে। গ্রামের গরিব ও অল্পশিক্ষিত মানুষেরা দ্রব্যমূল্যকে এবং শিক্ষিত তরুণেরা বেকারত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জরিপকারীদের কাছে।

এতদিন মনে করা হতো, হিন্দুত্ববাদ ও রামমন্দিরের মতো ধর্মীয় ইস্যুগুলোকে তুরুপের তাস বানিয়ে নির্বাচন উৎরে যাবেন মোদি। কিন্তু লোকনীতি জরিপ দিচ্ছে ভিন্ন ইঙ্গিত। এবারের জরিপে দেখা যাচ্ছে, মাত্র আট শতাংশ মানুষ রাম মন্দিরের মতো সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে কথা বলেছে। অর্থাৎ বিজেপির ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’ স্লোগান এবার খুব একটা ম্যাজিক দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না।

তবে জরিপের বাইরেও কিছু বাস্তবতা রয়েছে। যেমন, কর্ণাটকের নির্বাচনে বিজেপি হেরে গেলেও শিক্ষাদীক্ষায় এগিয়ে থাকা ঝাঁ চকচকে বেঙ্গালুরুর মানুষেরা কিন্তু মোদির ওপরেই আস্থা রেখেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ থেকে বোঝা যায়, হিন্দুত্ববাদ ও সাম্প্রদায়িকতা যতটা মধ্যবিত্ত ও তথাকথিত শহরে ‘আধুনিক’ মানুষদের মধ্যে জারি আছে, মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে ততটা নেই। প্রান্তজনদের কাছে এখনো জীবন ও জীবিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটের আগে তারা বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকেই প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, যে দল এ দুটি বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারবে, তাদেরই ভোট দেবে সাধারণ খেটে খাওয়া ভারতীয় ও তরুণ–যুবকেরা। তাই এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেকারত্বকে বিশেষভাবে আমলে নিয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস, দুই দলই।

শেষ পর্যন্ত কাদের ওপর আস্থা রাখে ভারতের ভোটাররা, সেটিই এখন দেখার।

আরবিএস
লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চালাতে বিহারে কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর একটি জনসভার মঞ্চ ভেঙে পড়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ এর প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থেকে ভারতের চারটি রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ দফায় পশ্চিমবঙ্গের আটটি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তমলুক এবং কাঁথি ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল এবং মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুরে...
ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে ট্রাক ও মিনি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।
বাংলাদেশে কর্মরত বৈধ-অবৈধ বিদেশি কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিেলেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। পশ্চিমবঙ্গ ও ঢাকার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে হত্যা করা হয়েছে...
বাংলাদেশের উপকূলসহ দক্ষিণাঞ্চলে বিশাল এলাকাজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে সিলেট দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের আসামে গিয়ে নিঃশেষিত হয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী...
লোডিং...
Nagad Ads
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর


© ২০২৪ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত